
খান মো. আঃ মজিদ, দিনাজপুর: দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলায় মাদকের বিস্তার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
সেতাবগঞ্জ পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রায় ৩৬৪টি মাদক স্পট এখন আর গোপনে নয়, বরং পুলিশ প্রশাসনের চোখের সামনে ফ্রি স্টাইলে পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অলিগলি, বাজার, বাসস্ট্যান্ড ও বিভিন্ন গলির মোড়ে মাদক কারবারিরা প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করছে। শুধু তাই নয়, কিশোর-কিশোরীসহ বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ মরণ নেশা জড়িয়ে পড়ছে , যার কারণে এলাকায় চুরি, ছিনতাই, রাহাজানি, খুনসহ নানা ধরনের অপরাধ দিন দিন বেড়ে চলেছে।
অভিযোগ রয়েছে, থানা পুলিশ মাঝে মাঝে কিছু মাদকসেবীকে আটক করে জেলহাজতে পাঠালেও, প্রকৃত মাদক কারবারিরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
স্থানীয়দের দাবি, পুলিশের আশীর্বাদেই তারা নিরাপদে এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী বলেন, “আসল মাদক ব্যবসায়ীরা ধরা পড়ছে না, বরং চুনোপুটিদের ধরেই ফাইল পূরণ করা হচ্ছে। যারা ব্যবসা চালাচ্ছে, তারা এতটাই প্রভাবশালী যে কেউ তাদের নাম মুখে আনতেও সাহস পায় না।”
এদিকে, এই চিত্র নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবক ও সাধারণ জনগণ। তাদের দাবি, মাদকের কারণে পরিবার ভাঙছে, সমাজে অস্থিরতা বাড়ছে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি হচ্ছে। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হচ্ছে— সংবাদকর্মীরাও নিরাপদ নন।
কিছু সাংবাদিক জানিয়েছেন, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পর প্রাণনাশের হুমকি পেতে হচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, “মাদক চক্র এবং পুলিশের একটি অংশ যেন পরস্পরের স্বার্থ রক্ষা করছে। যেই সত্য বলছে, তাকেই ভয় দেখানো হচ্ছে।”
এমন বাস্তবতায় সচেতন মহল ও এলাকাবাসী পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা মনে করেন, এখনই কঠোর অভিযান পরিচালনা না করলে বোচাগঞ্জ মাদকের করালগ্রাসে পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে পড়বে।
এলাকাবাসীর দাবি, “মাদকবিরোধী অভিযান হোক প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধেও, শুধু নাটকীয়তা নয়, চাই স্থায়ী সমাধান।”











