শুক্রবার, ১৪ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ,২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরকারি খাল থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও বিজয়নগর উপজেলার মনিপুর–কল্যাণপুর ব্রিজ সড়কসংলগ্ন সরকারি খাল থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, কোনো প্রকার সরকারি টেন্ডার বা অনুমোদন ছাড়াই দিনের বেলা প্রকাশ্যে এবং রাতে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে ভেকু (এক্সকাভেটর) ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে খালের মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কল্যাণপুর–মনিপুর এলাকার দুই ব্যক্তি—হযরত আলী ও মন মিয়া—দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়রা জানান, তাদের সঙ্গে কথা বললেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি। বরং একপ্রকার জোরপূর্বক সরকারি সম্পদ থেকে মাটি অপসারণ অব্যাহত রাখা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে তারা প্রশাসনের নজর এড়িয়ে এ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

মনিপুর–কল্যাণপুর ব্রিজের নিচের খালটি স্থানীয় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। খালের তলদেশ ও পাড় থেকে অতিরিক্ত মাটি কেটে নেওয়ায় ইতোমধ্যে কয়েকটি স্থানে ভাঙনের লক্ষণ দেখা দিয়েছে বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী। তাদের আশঙ্কা, এভাবে মাটি কাটতে থাকলে ব্রিজসংলগ্ন সড়ক ধসে পড়া কিংবা আশপাশের বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “দিনে-রাতে ট্রাক্টর চলছে। খালের পাড় ক্রমেই নিচু হয়ে যাচ্ছে। বর্ষা এলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

আরেকজন জানান, “সরকারি খালের মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ায় পানি প্রবাহের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে। এতে কৃষিজমি ও বসতবাড়ি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।”

এ বিষয়ে স্থানীয় পত্তন ভূমি অফিসের এক সহকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, শুক্রবার ও শনিবার সরকারি ছুটি থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে রবিবার অফিস খোলার পর বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করেছেন তিনি।

সরকারি সম্পদ রক্ষা ও সম্ভাব্য পরিবেশগত বিপর্যয় এড়াতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তারা অবৈধ মাটি কাটার কার্যক্রম বন্ধ, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত খাল ও সড়ক পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, যথাযথ নজরদারি ও নিয়মিত তদারকি না থাকলে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম থামানো কঠিন। তাই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

, বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যায়যায়কাল এর সর্বশেষ সংবাদ