
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আল মামুন সরকারের কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্ট মন্ত্রণালয়। সোমবার স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পরিষদের ৮ সদস্য। তারা মামুনের বিরুদ্ধে নালিশ করেন মন্ত্রীর কাছে। এরপরই মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার জন্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব তানভীর আহমেদ সিদ্দিকীকে নির্দেশ দেন। এরপরই সদস্যদের উপস্থিতিতে যুগ্ম সচিব জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আল মামুন সরকার ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (উপ-সচিব) মো. আমিনুল ইসলামের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। তাদের কাছে নানা অনিয়মের বিষয়ে জানতে চান। সূত্র জানায়, এ সময় আল মামুন সরকার সদর সংসদ সদস্য র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী তার বিরুদ্ধে এসব করাচ্ছেন বলে দোষ চাপানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু বরাদ্দ বিভাজনে অনিয়ম, নিজের সিদ্ধান্তে প্যানেল চেয়ারম্যান বানানো, এক সদস্যের চিকিৎসায় বিদেশ যাওয়ার ছুটির আবেদনে স্বাক্ষর না করাসহ সদস্যদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম যুগ্ম সচিবের ফোন পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, এসব সমস্যার সমাধান করার জন্যে তাকে বলা হয়েছে। সদস্য বাবুল আক্তারের ছুটি হয়ে যাবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে গত ৯ই ফেব্রুয়ারি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আল মামুন সরকারের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন পরিষদের ৮ সদস্য। ঘটনা প্রবাহে গত রোববার তৃতীয় মাসিক সভা থেকে অভিযোগকারী ৮ সদস্যকে বের করে দেন চেয়ারম্যান আল মামুন সরকার। ওই সদস্যরা আগের সভায় একক ভাবে মামুনের নেয়া সিদ্ধান্তের রেজ্যুলেশনে স্বাক্ষর করতে রাজি না হওয়ায় মামুন ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের বেরিয়ে যেতে বলেন। এতে অভিযোগ করা হয়, পরিষদের প্রথম সভায় সকল সদস্যের মতামত বা ভোটগ্রহণ ছাড়া তার অনুসারী ৩ সদস্যকে প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচন করেন মামুন। তাছাড়া সদস্যদের পাশ কাটিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র এবং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের অনুকূলে অর্থ বরাদ্দ প্রদানের সিদ্ধান্ত নেন নিজেই। এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়ে চেয়ারম্যান প্রকাশ্যেই বলেন, জেলা পরিষদ নির্বাচনের পূর্বে নির্বাচনের ভোটার উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের অনুকূলে অর্থ বরাদ্দ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। এটি প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন উল্লেখ করে সদস্যরা তাদের অভিযোগে বলেন, জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন-২০২২ অনুযায়ী জেলা পরিষদের উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে উপজেলা পরিষদ/পৌরসভা সমূহের উন্নয়ন কার্যক্রমের সুষ্ঠু সমন্বয় নিশ্চিত করার জন্য উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়রগণকে পদাধিকার বলে জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু জেলা পরিষদের রাজস্ব ও এডিপি বরাদ্দ স্থানীয় সরকারের ওই সকল চেয়ারম্যান ও মেয়রের অনুকূলে বিভাজন করার কোনো বিধান রাখা হয়নি। অথচ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আল মামুন সরকার তার নিজ ক্ষমতা বলে উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়রদের ৪ লাখ টাকা করে এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের ৩ লাখ টাকা করে বরাদ্দ বিভাজন করেন। শুধু তাই নয়, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান উন্নয়ন প্রকল্পের চাহিদা প্রদানের একটি ফরম ছাপিয়ে বণ্টন করেছেন। এ ছাড়া কোনো অনুমোদন ছাড়াই ৮/১০ লাখ টাকায় ৩ হাজার কম্বল ক্রয় করেন।











