রবিবার, ১১ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ,২৫শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ভূমি কর্মকর্তাকে দেয়া ঘুষের টাকা ফেরত চেয়ে আবেদন

শাহিন রেজা টিটু, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া): ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে এক ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উৎকোচ গ্রহণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

সরকারি অনুমোদনের আশ্বাস দিয়ে ঘুষ নেওয়ার পর কোনো কাজ না করেই একের পর এক দপ্তরে বদলি—অবশেষে সেই টাকা ফেরতের দাবিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন এক ভুক্তভোগী।

ভুক্তভোগী মো. রুবেল মিয়া বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দরিকান্দী গ্রামের আলম মিয়ার ছেলে।

লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত বছরের ১ মার্চ দরিকান্দী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত নায়েব মো. শামসুদ্দোহা সরকারি খাল থেকে মাটি কাটার অনুমোদন পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে নগদ ৭৯ হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহণ করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা নেওয়ার পর অভিযুক্ত কর্মকর্তা কোনো ধরনের অনুমোদন না দিয়েই সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। এর মধ্যেই হঠাৎ বদলির আদেশে তিনি দরিকান্দী ইউনিয়ন ভূমি অফিস ছেড়ে পাশ্ববর্তী রূপসদী ইউনিয়নে যোগ দেন। সেখানে কিছুদিন দায়িত্ব পালন শেষে আবার শাহপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বদলি হন। সর্বশেষ খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে তিনি নবীনগর সদর ভূমি অফিসে উপ সহকারী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, একের পর এক বদলির মধ্য দিয়ে তিনি কার্যত অভিযোগ এড়িয়ে চলার কৌশল অবলম্বন করেছেন। গত ১৪ জানুয়ারি বুধবার নবীনগর সদর ভূমি অফিসে গিয়ে ঘুষের টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্ত কর্মকর্তা তা স্পষ্টভাবে দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ সময় ঘটনাস্থলে সদর ভূমি অফিসের একাধিক কর্মকর্তা ও স্থানীয় সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।

ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপ সহকারী কর্মকর্তা মো. শামসুদ্দোহা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি কারও কাছ থেকে কোনো উৎকোচ গ্রহণ করিনি। এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ।”

তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও একাধিক ভুক্তভোগীর বক্তব্য অভিযোগের ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। রতনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভিপি মারুফসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘুষ গ্রহণ ও দুর্নীতির অভিযোগে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিকবার বিচার সালিশ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বারবার এমন অভিযোগ ওঠায় তিনি দীর্ঘ সময় কোনো একটি কর্মস্থলে অবস্থান করতে পারেন না।

এ বিষয়ে নবীনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খালিদ বিন মনসুর যায়যায়কালকে বলেন, “অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তের জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের প্রশ্ন—বারবার অভিযোগ ওঠার পরও কেন একজন বিতর্কিত কর্মকর্তাকে এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে বদলি করা হচ্ছে? তদন্ত শেষে এই প্রশ্নের জবাব মিলবে কিনা, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে নবীনগরের সচেতন মহল।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

, বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *