
মো. হাসান ভূঁইয়া, মাধবপুর (হবিগঞ্জ): হবিগঞ্জ–৪ সংসদীয় আসনে (মাধবপুর ও চুনারুঘাট) আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী মাঠে উত্তাপ বাড়ছে। ভোটের আর মাত্র দশ দিন বাকি। মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ ও স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী এস এম ফয়সল এবং মোমবাতি প্রতীকে জনপ্রিয় বক্তা গিয়াস উদ্দিন আত তাহেরির মধ্যে।
ধানের শীষের প্রার্থী এস এম ফয়সল বিএনপির একজন প্রবীণ ও পরিচিত নেতা। এই আসনে তার নাম নতুন নয়। একই সঙ্গে তিনি দেশের স্বনামধন্য শিল্পগোষ্ঠী সাইহাম গ্রুপের কর্ণধার। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচিত না হয়েও তিনি ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক উন্নয়ন এবং বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ডে অবদান রেখে আসছেন। দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং স্থানীয় উন্নয়ন উদ্যোগে সম্পৃক্ততার কারণে ভোটারদের একটি বড় অংশের কাছে তিনি আস্থার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় সাংগঠনিক শক্তি, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ও আর্থসামাজিক অবদান—এই তিনটি দিক থেকেই বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে এস এম ফয়সল এ আসনে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।
অন্যদিকে, নতুন প্রার্থী হলেও দ্রুত আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন গিয়াস উদ্দিন আত তাহেরি। তিনি একজন জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা হিসেবে পরিচিত। যদিও তিনি কুমিল্লার ভোটার, তবে হবিগঞ্জসহ সারাদেশে তার ব্যাপক পরিচিতি ও অনুসারী রয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি অপ্রত্যাশিতভাবে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন বলে স্থানীয় পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।
গিয়াস উদ্দিন আত তাহেরি ওলি–আউলিয়া ও মাজারপন্থী ধারার একজন বক্তা। ভৌগোলিক ও সামাজিকভাবে এই আসনে এই ধারার অনুসারীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায়, ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক অনুভূতির জায়গা থেকে একটি বড় ভোটব্যাংক তার দিকে ঝুঁকছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরাসরি অংশ নিতে না পারায়, দলটির একটি অংশের ভোটার নীরবে গিয়াস উদ্দিন আত তাহেরিকে সমর্থন জানাচ্ছেন—এমন তথ্যও মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। বিকল্প প্রার্থী হিসেবে তাকে দেখছেন অনেক আওয়ামী মনোভাবাপন্ন ভোটার।
হবিগঞ্জ–৪ আসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত এলাকা হিসেবে বিবেচিত তেলিপাড়া চা বাগান অঞ্চল। এখানে রয়েছে একটি বিশাল ভোটার জনগোষ্ঠী, যারা অতীতে ধারাবাহিকভাবে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে এসেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে প্রচলিত ধারণা—“তেলিপাড়া চা বাগানের ভোট যে পায়, জয়ও তারই হয়।” ফলে এই এলাকার ভোট কোন দিকে যাবে, সেটিই নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
নির্বাচনের আর মাত্র দশ দিন বাকি থাকলেও দুই প্রার্থীই এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ ও প্রচারণা চালাচ্ছেন। উঠান বৈঠক, ব্যক্তি পর্যায়ের যোগাযোগ ও সাংগঠনিক তৎপরতায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, বড় কোনো অঘটনা না ঘটলে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এস এম ফয়সল তুলনামূলকভাবে এগিয়ে থাকবেন। মাঠপর্যায়ে তার পক্ষে জয়ী হওয়ার বার্তা আগেভাগেই ছড়িয়ে পড়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটের ফল কোন দিকে যায়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ভোটের দিন পর্যন্ত।











