
মো. রাশেদুল ইসলাম, মিঠাপুকুর(রংপুর): মিঠাপুকুর উপজেলার ২,৩,৭ নং ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী গ্রামের ওয়ার্ড কোনাপাড়া, লোহনী কোনো পাড়া, মোমিনপুর-অভিরামনুরপুর, অভিরামপুর সহ আশেপাশের বেশ কিছু গ্রামে চলছে চড়া সুদ বাণিজ্য। এছাড়াও নেশা জাতীয় জিনিস ব্যাপক হাড়ে বৃদ্ধি পেয়েছে এসব এলাকায়।
বিষয়গুলো স্থানীয় কিশোর, যুবকদের মানসিকতায় ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলছে বলে সচেতন মহল মনে করছে। ফলে বৃদ্ধি পেয়েছে চুরি, ডাকাতি ও খুনের মতো ঘটনা। বাদ যাচ্ছে না স্কুলও। অন্যদিকে চলছে সুদের টাকার ছড়াছড়ি। যার হার প্রতি হাজারে ১৮০-২২০ টাকা পর্যন্ত মাসিক সুদের টাকা দিতে হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সুদের টাকা নিয়ে অনেক যুবক বিভিন্ন নেশায় আসক্ত হচ্ছে। রাত হলেই বিভিন্ন জায়গায় বসে মাদকের আসর। দিনে রাস্তার পাশে চিপা গলি ও ঝোপের ভেতর মাদক সেবনের প্রতিযোগিতা চলে। অনেকেই মাদকের সিন্ডিকেট বানিয়ে বসেছেন। অনেক যুবক সুদের টাকা দিতে না পারায় বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছে। অনেক অসহায় মানুষ হারাচ্ছে তাদের শেষ সম্বল। সুদের টাকা দিতে না পারায় তাদের শেষ সম্বল গরু নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অনেক লোক সুদের টাকা দিতে না পারায় তাদের হাটে-বাজারে হেনস্তার শিকার হতে হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু লোকের সাথে কথা বলে জানা যায়, যাদের কিছুই ছিলো না তারাই আজ ১০/১২ লাখ টাকার মালিক। অনিবন্ধিত সুদ বাণিজ্য এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে, অনেক ভিক্ষুক ভিক্ষা করেও চড়া সুদে টাকা দেয়। আর এসব টাকা নিচ্ছে বেশির ভাগ মাদকাসক্ত, জু্য়াড়ি ও অসহায় ব্যক্তি। এমনকি ব্যাংক থেকে টাকা নিয়েও চলছে সুদ বাণিজ্য। এসব সুদ কারবারি ও মাদক কারবারিদের কাছে হার মানছে অসহায় ব্যক্তিরা।
এলাকাবাসী জানায়, প্রশাসন বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা করলেও থেমে নেই মাদক কারবারিদের মাদক বাণিজ্য। এসব এলাকায় বিভিন্ন সচেতন মানুষদের সঙ্গে কথা বলে এসবের সত্যতার প্রমাণ পাওয়া যায়।
এলাকাবাসীর দাবি,তাদের সন্তানদের ও অসহায় মানুষদের রক্ষা করতে এসব মাদক ও সুদ কারবারিদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া উচিত। এজন্য তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।











