
শাহিনুর রহমান, মোহনপুর (রাজশাহী): রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলা ধুরইল ডিএস কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ দুরুল হোদা’র বিরুদ্ধে অবৈধ নিয়োগ, নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে তার পদত্যাগ দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অভিভাবক ও বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীরা।
শনিবার দুপুরে মোহনপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন এ দাবি করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে অধ্যক্ষ দুরুল হোদা’র নানা অনিয়ম দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে লিখিত বক্তব্য রাখেন মাদ্রাসার সহকারি মৌলভি শিক্ষক এসএমএ রউফ।
লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, এই দুরুল হোদা রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার ধুরইল ডিএস কামিল মাদ্রাসার বর্তমান অধ্যক্ষ। চাকরি করতেন একটি মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক হিসেবে। কিন্তু নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই বনে গেছেন অধ্যক্ষ, করেছেন দুর্নীতি, গড়েছেন অবৈধ সম্পদ। তার অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিলেও অদৃশ্য কারণে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
অধ্যক্ষ দুরুল হোদা’র বিরুদ্ধে যারাই প্রতিবাদ করেছে তারাই হয়রানির শিকার হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। ২০২২ সালের ১০ জানুয়ারি অভিভাবক সদস্য মুকলেসুর রহমান বর্তমান অধ্যক্ষ ও পূর্বের উপাধ্যক্ষ দুরুল হোদা’র অবৈধ নিয়োগ ও পদোন্নতি এমপিওভুক্তি/এমপিও সংশোধন বন্ধ করার জন্য শিক্ষামন্ত্রী বরাবর অভিযোগ করেছিলেন। তাতেও কোন কাজ হয়নি। দুরুল হুদা মাদ্রাসায় যোগদানের পর থেকে অসংখ্য অনিয়ম দুর্নীতি বিষয়ে তুলে ধরা হয় সংবাদ সম্মেলনে যার তথ্য প্রমান দেন উপস্থিত সাংবাদিকদের।
লিখিত বক্তব্যে সহকারি মৌলভি শিক্ষক এসএমএ রউফ আরো বলেন, দুরুল হোদা নিজের দুর্নীতিকে ঢাঁকতে ২০১৭ সালের পর আওয়ামী লীগের সাথে হাত মিলিয়ে ক্ষমতার জোরে উপাধ্যক্ষ দুরুল হুদা রাতের আধারে পছন্দসই লোক নিয়ে গভর্নিং বডি তৈরি করে নিজের ইচ্ছেমত মাদ্রাসা পরিচালনা করে আসছেন। উপাধ্যক্ষ পদে প্রায় ২৮ বছর চাকরির পর নিজের শিক্ষা সনদে তৃতীয় শ্রেণি থাকা সত্ত্বেও মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি, মোহনপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ অধ্যক্ষ ও উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক মফিজ উদ্দিন কবিরাজকে মোটা টাকার বিনিময়ে ২০২৩ সালে ডিসেম্বরে তিনি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হয়ে যান।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৫ আগষ্ট ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলে অধ্যক্ষ দুরুল হুদা ৬ আগষ্ট হতে ১৪ আগষ্ট পর্যন্ত মাদ্রাসায় অনুপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে অধ্যক্ষ দুরুল হোদা’র পদত্যাগ দাবি করা হয়।
উক্ত সংবাদ সম্মেলন উপস্থিত ছিলেন, অভিভাবক আ: মানিক, অভিভাবক মো. হামিদ, মো. মুরাদ মোল্লা, সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মোঃ সিরাজুল মোল্লা।
এছাড়াও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র সমাজের মামুনুর রশীদ, রাজশাহী কলেজ, মো. জুয়েল রানা, রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, মো. রাফি খান, মোহনপুর সরকারি কলেজ, মো. সৌরভ, মোহনপুর সরকারি কলেজ এর শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।











