
পাভেল ইসলাম মিমুল, উত্তরবঙ্গ: রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য প্রফেসর ডা. জাওয়াদুল হকের অপসারণ এবং সৎ ও যোগ্য উপাচার্য নিয়োগের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত, মানসম্মত, আধুনিক মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়নের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
অনুলিপি দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিবকে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজশাহীর সামাজিক সংগঠন ‘জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদে’র পক্ষ থেকে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
এ সময় ‘জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদে’র সভাপতি মোঃ সাইদুর রহমান, উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী বরজাহান, মোজাম্মেল বাবু, মানবাধিকার কর্মী আইয়ুব আলী তালুকদার, সাংবাদিক রাতুলসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়টি বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির আতুর ঘরে পরিণত হয়েছে। বর্তমান উপাচার্য ডা. জাওয়াদুল হক বিগত আওয়ামী আমলে রামেবিতে ঢুকেই অনিয়ম-দুর্নীতি শুরু করেন। এরপর জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী সরকারের পতন হলেও ডা. জাওয়াদুল হক খোলস বদলিয়ে ভিসির পদ বাগিয়ে নিয়ে আবারও পদে পদে অনিয়ম-দুর্নীতি শুরু করেন।
স্মারকলিপিতে বর্তমান উপাচার্য ডা. জাওয়াদুল হকের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য সংযুক্ত সহকারে তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য অনিয়ম-দুর্নীতি হচ্ছে, ‘নীতিমালা লঙ্ঘন করে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত দায়িত্বে ৫ম গ্রেডের পিএসসহ তিনটি পদে নিয়োগ,রামেবি’র আইন ও ইউজিসির নীতিমালা অমান্য করে পছন্দের ৯ জন কর্মকর্তা ও ৪ জন ডিন নিয়োগ; টেন্ডার ছাড়াই রামেবি প্রকল্পের সহস্রাধিক গাছ কেটে বিক্রি, পুকুর ও ফসলের জমি লিজ, দোকান ভাড়াসহ রামেবি প্রোজেক্টের কোটি কোটি টাকার সম্পদ আত্মসাত পছন্দের ঠিকাদারকে টেন্ডারে কাজ দিতে পিপিআর আইন লঙ্ঘন করে ক্রয় পরামর্শককে মূল্যায়ন (টেক) কমিটির সদস্য নিয়োগ এবং ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ার জন্য উপাচার্যের ৯% ঘুষ দাবির অভিযোগ।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়েছে, ডা. জাওয়াদুল হক রামেবির প্রতিষ্ঠালগ্নে একাই গুরুত্বপূর্ণ ৭টি পদ দখল, ৬৯ পরিদর্শন কমিটির আহবায়ক, পরীক্ষার প্রশ্নপ্রণয়ন ও গাড়ি ব্যবহারে অনিয়মসহ বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে রামেবিকে দুর্নীতির আতুর ঘরে পরিণত করেন। ওই সময় অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্তে গঠিত কমিটির কাছে ডা. জাওয়াদুল হক লিখিত বক্তব্যে ‘‘তিনি বর্তমানে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে তৎপর আছেন” দাবি করে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পান। সম্প্রতি রামেবি উপাচার্যের অনিয়ম-দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের খবর আবারও সামনে আসলে তাকে অপসারণের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এরকম দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি উপাচার্যের পদে থাকলে দুর্নীতিমুক্ত মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে।











