
বিশেষ প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ : ট্রাফিক পুলিশের অনুপস্থিতিতে রায়গঞ্জ পৌর এলাকা ধানগড়াসহ উপজেলার গুরুত্বপর্ণ সড়কে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব নিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
এতে সড়কে যানবাহন চলাচলে গতি ফেরার পাশাপাশি স্বস্তি ফেরে সাধারণ মানুষের মধ্যে। উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র সমাজ এবং সরকারি বেগম নুরুণনাহার তর্কবাগীশ অনার্স কলেজের রোভার স্কাউট গ্রুপ পৌর বাসস্ট্যান্ড গোলচত্বরে সকাল থেকেই ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব নেয়। ভূঁইয়াগাতি বাজারেও শিক্ষার্থীরা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রনে কাজ করছে। সোমবার সড়ক ঘুরে শিক্ষার্থীদের এমন কার্যক্রম দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা সড়কের সিগন্যালে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। কেউ ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করলেই তারা চালকদের বাধা দিচ্ছেন। এতে করে রাস্তায় বড় ধরনের কোনো যানজট হচ্ছে না। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা সাধারণ মানুষকে রাস্তা পারাপারে সহায়তা করতেও দেখা যায়। শিক্ষার্থীদের এই চেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন রাস্তায় চলাচলকারী সাধারণ মানুষ।
দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষার্থী পারভেজ সরকার বলেন, ‘আমরা দেখলাম রায়গঞ্জ পৌর এলাকার ধানগড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কোনো ট্রাফিক পুলিশ নেই। এতে চতুর্দিকে একধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। তাই আজকে আমরা কয়েকজন মিলে গোল চত্বর রাস্তায় দায়িত্ব নিয়েছি। ট্রাফিক পুলিশ যে দায়িত্বটুকু পালন করে, আমরা সেটুকু পালন করার চেস্টা করেছি।’
ইছরাত তাবাচ্ছুম বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে আমরা এই ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালন করছি। এছাড়া মোটরসাইকেল আরোহীদের হেলমেট ব্যবহারে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
দায়িত্ব পালন করা আরেক শিক্ষার্থী রোভার লিডার কৃষ্ণ কুমার বলেন, ‘গাড়ির শৃঙ্খলা ফেরাতে আমরা এখানে দলবদ্ধ হয়ে কাজ করছি। এ ছাড়া আমাদের আরেকটি টিম প্রস্তুত আছে, তারা বিকালে দায়িত্ব গ্রহণ করে।’
সরকারি বেগম নুরুণনাহার তর্কবাগীশ অনার্স কলেজের প্রভাষক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সড়কে পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশ নেই। শিক্ষার্থীরা সড়কে গাড়ির নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব নিয়েছেন। যা আমাদের জন্য খুব উপকার হয়েছে। এতে গাড়ি চলাচল অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। তারা আসলে তাদের মতো করে চেষ্টা করছে। এটা প্রশংসনীয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সলঙ্গা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মো. আসাদুল আলম আসাদ বলেন, শিক্ষার্থীরা দেখিয়ে দিয়েছেন, তাদের ক্ষমতা কত। তারা দেশটা ২য় বারের মতো স্বাধীন করে দিয়েছে। আমি তাদের এ দায়িত্ব পালনের জন্য ভালোবাসা জানাই। তাদের এই অর্জনের জন্য একজন শিক্ষক হিসাবে আমি গর্বিত।
সচেতন মহল বলছেন, দেশকে এখন গোছানোর পালা। যেহেতু এই মুহূর্তে পুলিশ বা ট্রাফিক পুলিশও নেই। তাই ছাত্ররা রাস্তায় যাতে যান চলাচলে সমস্যা না হয় সেজন্য কাজ করছে। আমরা সবাইকে অনুরোধ করব সবাই যেন ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলে।











