বুধবার, ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ,৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

এর সর্বশেষ সংবাদ

লামায় ব্যবসায়ী ওমর ফারুক ও তার ছেলের ওপর সন্ত্রাসী হামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বান্দরবানের লামায় সাধারণ গাছ ব্যবসায়ী ও বাগান মালিক পক্ষের সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে চার ঘন্টার ব্যবধানে আরেকটি সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওমর ফারুক (বেচু)।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টায় সংবাদ সম্মেলনে তিনি উল্লেখ করেন, লামা জোত মালিক কর্তৃক অবাধ কাঠ ব্যবসা চালু রাখার জন্য মো. ওমর ফারুক ও তাহার ছেলেকে হত্যা করে তাদের অবৈধ চোরাই গাছ কাট ব্যবসা চালু করার জন্য গত ২৬ আগস্ট জোত মালিক সমিতির অফিসে গভীর রাতে মিটিং করে ওমর ফারুকে প্রাণে মেরে ফেলবে বলে ষড়যন্ত্র করে।

ওমর ফারুক আরও জানান, গত ২৮ সেপ্টেম্বর টিটিএন্ডডিসির কাঠ ব্যবসায়ীর কিছু সংখ্যক সন্ত্রাসীরা আনুমানিক দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে কুটুমবাড়ি রেস্টুরেন্ট এর সামনে তাকে প্রাণনাশের উদ্দ্যেশে মারধর করে। সন্ত্রাসী কায়দায় ওমর ফারুককে মেরে ফেলার জন্য তুলে নিয়ে লামা উপজেলা পরিষদের সম্মুখে প্রধান সড়কে আসলে এলাকার স্থানীয় জনগণ ঘটনাস্থল থেকে ওমর ফারুককে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। তাকে লামা জেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু সন্ত্রাসী বাহিনী ওমর ফারুককে মেরে ক্ষান্ত হয়নি, একই সন্ত্রাসী বাহিনী কিছুক্ষণ পরে লামা কলা বাজারে ওমর ফারুকের ছেলেকে একই কায়দা মারধর করে, রাস্তায় ফেলে চলে যায় জোত মালিক সমিতির সন্ত্রাসী বাহিনী।

ওমর ফারুক তার বক্তব্যে বলেন, এলাকার স্থানীয় জনগণ রক্তাক্ত অবস্থায় তার ছেলেকে উদ্ধার করে একই হাসপাতালে ভর্তি করে। উক্ত হসপিটালে দীর্ঘ সাত থেকে আট দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর মোটামুটি সুস্থ হলে হসপিটাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার জন্য পুলিশ কেস স্লিপ নেন। লামা থানায় অভিযোগ করতে গেলে অফিসার ইনচার্জ ওসি অভিযোগ না নিয়ে তাকে বলেন উপরের টেলিফোনের কারণে অভিযোগ নেওয়া যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে সত্যতা যাচাইয়ের জন্য মুঠোফোনে লামা থানার ওসিকে টেলিফোন করলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অভিযোগ নেওয়া হয়েছে তবে এখন পর্যন্ত কোন আসামি গ্রেফতার করা যায়নি।

আসামি কেন গ্রেপ্তার হয়নি- এ বিষয়ে ওসির কাছ থেকে জানতে চাইলে আর কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।

ওমর ফারুক অভিযোগ করে বলেন, আইনের রক্ষক যদি ভক্ষক হয়ে যায় তাহলে সাধারণ জনগণ কোথায় যাবে। এখনো স্বৈরাচার দেশে আছে বলে মনে হচ্ছে। লামা জোত মালিকের ব্যবসা যদি বৈধ হয় তাহলে লামা বন বিভাগ কেন তাদের ব্যবসা হস্তক্ষেপ করবে। তারা বিগত ১৫/১৬ বছর ধরে লামা ফরেস্ট অফিসকে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার মনোভাব নিয়ে লুটপাট ও অবৈধ ব্যবসা করত লামা জোত মালিক সমিতি। এরই প্রতিবাদ করতে গিয়ে চোরাই ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন গোপন তথ্য ফরেস্ট অফিসকে প্রকাশ করার কারণে আজকে ওমর ফারুক ও তার পরিবার সন্ত্রাসীদের হুমকির মুখে।

ওমর ফারুক ও তাহার ছেলেকে হত্যা করার জন্য সন্ত্রাসীদের মধ্যে নেতৃত্ব দেন কিশোর গ্যাং লিডার সন্ত্রাসী (হারুন, সেলিম, খোকন, বাবুল, শামসু, ফতেহ আলী সহ অজ্ঞাত সমিতির অন্যান্য সন্ত্রাসী সদস্যরা।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর সকালে লামা প্রেস ক্লাব হলরুমে লামা জোত মালিক সমিতি কর্তৃক ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে লামা উপজেলার সাধারণ গাছ ব্যবসায়ী ও বাগান মালিক পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে সরকারি রিজার্ভের গাছ খেকো, অসখ্য বন মামলার আসামি, অবৈধ গরু ব্যবসায়ী, সেনাবাহিনী-বন বিভাগের নামধারী কথিত সোর্স ও চাঁদাবাজ আখ্যায়িত করে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করায়।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ী সুশীল সমাজ এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।

ওমর ফারুক তার বক্তব্যে বলেন, ছেলে সন্তান পরিবার হুমকির মুখে রয়েছে। সন্ত্রাসী বাহিনী তাদেরকে মেরে লাশ গুম করে ফেলবে বলে হুমকি দিয়েছে। তিনি পরিবার নিয়ে বাঁচার আকুতি মিনতি জানিয়ে সরকার ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে তার জীবনের নিরাপত্তা ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে আকুতি জানিয়েছেন ।

এসময় এলাকাবাসী, স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *