
পারভেজ আলম আদেল, স্টাফ রিপোর্টার: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বেপরোয়া বেত্রাঘাতে প্রথম শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে।
মানবিক মূল্যবোধ বিসর্জন দিয়ে এমন নৃশংসতার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
আহত শিক্ষার্থী মো. রোহান, পাকশিমুল গ্রামের সৌদি প্রবাসী আবদুল হান্নানের ছেলে।
ঘটনা ঘটেছে সোমবার দুপুরে পাকশিমুল তাহফিজুল কোরআন মাদ্রাসায়।
জানা যায়, প্রতিদিনের মতো রোহান বাড়ি না ফেরায় তার পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে মাদ্রাসায় পৌঁছালে হতবাক হয়ে যান। তারা দেখতে পান, রোহানকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়েছে এবং তার শরীর জুড়ে নির্মম নির্যাতনের চিহ্ন।
রোহানের নানা মো. হিরা মিয়া বলেন, মাত্র দুই সপ্তাহ আগে নাতিকে মাদ্রাসায় ভর্তি করেছি। ক্লাস চলাকালে বের হতে চাওয়ায় শিক্ষক মাওলানা অলিউল্লা লাদেন উত্তেজিত হয়ে বেত দিয়ে যত্রতত্র আঘাত করেন। বেদম মারধরে রোহানের পিঠ, গলা, মাথাসহ শরীরের নানা স্থানে গভীর জখম হয়। অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে সরাইল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দিই।
এ ঘটনায় হিরা মিয়া বাদী হয়ে সরাইল থানায় অভিযুক্ত শিক্ষক অলিউল্লা লাদেনের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর কঠোর শাস্তি দাবি করেন। অভিযুক্ত শিক্ষক মাওলানা অলিউল্লা লাদেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “রোহান দুষ্টুমি করেছিল, তাই তাকে বেত দিয়েছি।”
এ বিষয়ে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হবে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”











