
সাইদুল ইসলাম আবির, বিশেষ প্রতিনিধি : টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানির কারণে সিরাজগঞ্জে বন্যা দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন জেলার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বানভাসি মানুষের সংখ্যা। পাশাপাশি আশ্রয়, খাবার ও বিশুদ্ধ পানি নিয়ে দুর্ভোগে পড়েছে দুর্গত এলাকার মানুষ। গত ২৪ ঘণ্টায় তিন সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে রোববার সকালে শহর রক্ষা বাঁধ পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ৬১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিরাজগঞ্জ গেজ রিডার হাসান মামুন জানান, পানি বৃদ্ধির হার অনেকটাই কমে এসেছে।
বন্যার পানি বাড়ার ফলে জেলার কাজিপুর, সদর, বেলকুচি, চৌহালি ও শাহজাদপুর উপজেলার চরাঞ্চলবেষ্টিত ৩৪টি ইউনিয়নের ৫ হাজার পরিবারের প্রায় ২৪ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এ সকল এলাকার ৫০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ৪০৮ হেক্টর জমির আউশ, রোপা আমন, পাট, তিল, মরিচ, বাদাম, বোনা আমন, শাকসবজি ও বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে কর্মহীন হয়ে পড়েছে কৃষক ও শ্রমিকেরা। গবাদি পশু, শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের নিয়ে বিপাকে পরেছে বন্যা কবলিতরা। এসব এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন সমস্যা।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান জানান, আরও কয়েকদিন যমুনা নদীর পানি বাড়বে। এতে মাঝারি রকম বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় জিওটিউব ফেলা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বন্যা মোকাবিলায় সব প্রস্তুতি নিয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আকতারুজ্জামান বলেন, বন্যায় সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ৮টি, কাজীপুরে ১০টি, শাহজাদপুরে ৫টি, বেলকুচির ৪টি ও চৌহালী উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ৫ হাজার ৩৬২টি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এসব মানুষের জন্য ইতিমধ্যে ৯০ মেট্রিকটন চাল ও ৩০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।”এ ছাড়া নগদ ১০ লাখ টাকা, ৪০০ টন চাল ও ৫০০ বান্ডিল ঢেউটিন মজুত রাখা হয়েছে। সেগুলো বন্যাকবলিতদের মাঝে সময়মতো বিতরণ করা হবে।”











