
মো. মারুফ হোসেন লিয়ন, সৈয়দপুর (নীলফামারী): উত্তরবঙ্গের বৃহত্তম মার্কেট নীলফামারীর সৈয়দপুর প্লাজার ব্যবসায়ীরা ওই প্লাজার প্রকল্প পরিচালকের নানা অনিয়ম ও ব্যবসায়ীদের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং রংপুর বিভাগের বৃহত্তম সৈয়দপুর প্লাজা মার্কেটের সার্বিক উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য ১২ দফার দাবিতে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
আগামী ৭ দিনের মধ্যে ওই দাবি মানা না হলে সর্বস্তরের জনসাধারণকে নিয়ে কঠোর আন্দোলনে যাবেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
মঙ্গলবার দুপুরে সৈয়দপুর প্লাজার সামনে ওই মানবন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সৈয়দপুর প্লাজা সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতি ও সৈয়দপুর প্লাজা, এসআর প্লাজার ব্যবসায়ীদের ব্যানারে ওই মানবন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ওই মার্কেটের কয়েক শতাধিক ব্যবসায়ীরা নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন।
ব্যবসায়ী রওশন মাহানামার সঞ্চালনায় মানবন্ধনে বক্তব্য রাখেন, প্লাজা সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শেখ কুতুব উদ্দিন, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন মনু, সহ-সভাপতি সোহেল রানা, কোষাধ্যক্ষ আরমান হোসেন, ব্যবসায়ী আলতাব হোসেন, শেখ নিজাম, আরশাদ আলো, মওলানা ময়নুল ইসলাম, মোস্তাফিজা রহমান শিলাসহ অন্যান্য ব্যবসায়ীবৃন্দ।
ব্যবসায়ীরা জানান, নানা অনিয়মে ছেয়ে গেছে উত্তরবঙ্গের বৃহত্তম এই শপিংমলটি। প্লাজার ভিতরে চাইনিজ রেস্তোরার নামে দেহ ব্যবসা, প্লাজার টয়লেটগুলো দোকান বানিয়ে বিক্রি, এত বড় মার্কেটে নেই পর্যাপ্ত জেনারেটরের ব্যবস্থা, নেই অগ্নিনির্বাপনের ব্যবস্থা, সবজি মার্কেটের যায়গায় বহুতল নির্মান, গ্যারেজে দুর্নীতি, দোকান কেনাবেচা কিংবা ভাড়া দেওয়া নেওয়াতে দুর্ণীতিসহ বহু দুর্নীতি করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন এই প্লাজার প্রকল্প পরিচালক গোলজার আশরাফী। বারবার অভিযোগ দেওয়ার পরেও তিনি কোন প্রতিকারতো করেননি বরং যারা যারা এর প্রতিবাদ করেছে সেসকল ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ৪টি মামলা করা হয়েছে। এমনকি যে ঢাকা অফিস আমরা কখনো যায়নি, দেখিনি সেখানে গিয়ে নাকি ১ কোটি টাকার চাঁদাবাজী মামলা করা হয়েছে ব্যবসায়ীদের নামে।
ব্যবসায়ীরা আরও বলেন, উনার দুর্নীতির বিরুদ্ধে বললেই চাঁদাবাজির মামলা খেতে হয়। এমনটা আর মানা যায় না। উত্তরবঙ্গের বৃহত্তম এই মার্কেটে প্রায় ৩ হাজার ২শ দোকান ঘর রয়েছে। যার মধ্যে সচল রয়েছে প্রায় ৮শ। সকল দোকানদারই উনার উপর ক্ষিপ্ত। উনার স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে সবাই এখন আন্দোলনে নামতে বাধ্য হচ্ছেন।
তারা বলেন, আমাদের ১২ দফা যেমন, অবিলম্বে যে সকল সম্মানিত ব্যবসায়ীদের উপর মিথ্যা মামলা ৭ দিনের মধ্যে প্রত্যাহার, দুর্নীতিবাজ প্রকল্প পরিচালক গুলজার এর অপসারণ, ব্যবসায়ীদের আধুনিক স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট নির্মাণ, আধুনিক ৩০০ কেভি অটো জেনারেটরের ব্যবস্থা, প্লাজা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক দখলকৃত গার্ডরুম দখলমুক্ত করা, ঐতিহ্যবাহী সৈয়দপুর প্লাজাজা ও এস.আর প্লাজায় সংযোগকারী দুটি সংযোগ সড়ক (ওভার ব্রীজ) নির্মাণ, মার্কেটের নিরাপত্তার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন, পৌরসভা কর্তৃক পাসকৃত নকশা অনুযায়ী চলন্ত সিঁড়ি (স্কেলেটর) ও লিফট চালু করা, উত্তরবঙ্গের বৃহত্তম এই মার্কেটের সৌন্দর্য বর্ধনকল্পে মার্কেটের সম্মুখভাগের গ্যাসি পরিবর্তন সহ সমস্ত মার্কেটটি রং করা, মার্কেটের সৌন্দর্যবর্ধনে পার্কিং / গ্যারেজ অন্যত্র সরানো, প্লাজার বর্জ্য/আবর্জনা ফেলার জন্য সেড নির্মাণ, ব্যবসায়ী ও ক্রেতাগণের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করতে হবে।
এসব দাবি আগামী ৭ দিনের মধ্যে না মানলে উত্তরবঙ্গের বৃহত্তম এই মার্কেটের ব্যবসায়ীগণ অবরোধসহ কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচী ঘোষণা করতে বাধ্য হবে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। পরে মানববন্ধন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে প্লাজার মালিকপক্ষ, প্রকল্প পরিচালকের নানা অনিয়মের আরও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন ব্যবসায়ীরা।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর প্লাজার প্রকল্প পরিচালক গুলজার আশরাফীর সাথে কথা বললে তিনি এসব বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে চাননি।











