
মোঃ ওসমান গনি ইলি, কক্সবাজার: কক্সবাজার সদরের মহুরীপাড়ার ওমাইর এতিমখানার ৫ম শ্রেণির ছাত্রী সাদিয়া সুলতানা মরিয়ম (১৩) নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন হয়েছে ১২ দিন পর।
অপহরণ বা খুন নয় নিজেরই সমবয়সী দুই বান্ধবীর সহায়তায় মাদ্রাসা কম্পাউন্ডের ভেতরেই আত্মগোপনে ছিল সে।
২৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় এতিমখানা থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি মরিয়ম। বহু খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে পরদিন কক্সবাজার সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তার মা রিনা আক্তার। নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ভিন্ন মতের নানা তথ্যও প্রকাশ পায়।
তদন্তে জানা যায়, নিখোঁজের কয়েকদিন আগে এতিমখানায় একটি ছোটখাটো চুরির ঘটনা ঘটে এবং সে ঘটনায় কিছুজন মরিয়মকে সন্দেহ করেন। এ অভিযোগে মন ভেঙে যায় তার। লজ্জা ও অপমানে এতিমখানা ছেড়ে পালানোর সিদ্ধান্ত নেয় মরিয়ম। মাদ্রাসা কম্পাউন্ডের একটি ফ্ল্যাটের দুই গৃহকর্মীর সঙ্গে আগে থেকেই তার পরিচয় ছিল। সুযোগ পেয়ে তাদের সহযোগিতায় গৃহকর্তা–গৃহিণীর অজান্তে সে আশ্রয় নেয় ফ্ল্যাটের ফলস ছাদের ঘরটিতে।
অবিশ্বাস্য হলেও সত্য ১২ দিন ধরে ওই দুই কিশোরী গৃহকর্মীই লুকিয়ে খাবার ও প্রয়োজনীয় যত্ন দিয়ে মরিয়মকে টিকিয়ে রাখে। ভোরবেলা গৃহিণী নিজের বেডরুমে অচেনা একটি নড়াচড়া টের পেয়ে কৌতূহলবশত খোঁজ নিতে গিয়ে আবিষ্কার করেন ঘুমন্ত মরিয়মকে। পরে এতিমখানা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার এসআই অজিত জানান, মরিয়ম ও তাকে সহায়তাকারী দুই গৃহকর্মীকে ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তারা স্বীকার করেছে, চুরির ঘটনায় সন্দেহ ও অপমানে মরিয়ম আত্মগোপনে গিয়েছিল।
মেয়েকে ফিরে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন মা রিনা আক্তার। তিনি বলেন, “আমার মেয়ের বক্তব্যে পরিষ্কার—এতিমখানার কেউ তাকে নির্যাতন করেনি। ভুল বোঝাবুঝির কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে। মেয়েকে জীবিত ফিরে পেয়ে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।”
এতিমখানার তত্ত্বাবধায়ক মাওলানা এহসান জানান, শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেয়ে তারা স্বস্তি অনুভব করছেন। পুলিশের সহায়তায় মরিয়মকে অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।











