বৃহস্পতিবার, ২৪শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ,৮ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

এর সর্বশেষ সংবাদ

৯ দিন ধরে ইরানে বিক্ষোভ, নাক গলানোর সুযোগ নিতে চাইছেন ট্রাম্প

যায়যায়কাল ডেস্ক: ইরানের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ নবম দিনে গড়িয়েছে।

দেশটির রাজধানী তেহরানসহ একাধিক প্রদেশে বিক্ষোভ চলতে থাকায় অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।

বিবিসি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত অন্তত ১৯ জন বিক্ষোভকারী ও একজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন।

মানবাধিকার কর্মীরাও জানিয়েছে, গত সপ্তাহ থেকে ইরানের ৩১টি প্রদেশের ২৬টিতেই বিক্ষোভ হয়েছে।

এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও হুমকি দিয়েছেন, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করতে পারে।

এয়ার ফোর্স ওয়ানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানে আবার অতীতের মতো মানুষ হত্যা শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে।

সোমবার সকালে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেন, বিক্ষোভকারীদের ‘যৌক্তিক দাবিগুলো’ শোনা উচিত এবং সেগুলো পরিবর্তনের জন্য কাজ করতে হবে।

তবে তিনি সতর্ক করেন, বিক্ষোভকে কাজে লাগাতে চাওয়া বিদেশি শক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালিবাফের বক্তব্য ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অবস্থানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।

খামেনি এর আগে বলেছিলেন, দাঙ্গাকারীদের দাবি মেনে নেওয়া উচিত।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে, তারা জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট করছে। রোববার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানি জনগণের আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করার পর এই প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই বলেন, নেতানিয়াহু ও কিছু উগ্র আমেরিকান কর্মকর্তার বক্তব্য সহিংসতা উসকে দিচ্ছে।

বিবিসি পার্সিয়ান জানিয়েছে, সোমবার ইরানের ইয়াসুজ শহরে বিক্ষোভকারীদের ‘স্বাধীনতা, স্বাধীনতা’ স্লোগান দিতে দেখা গেছে। রোববার রাতে তেহরানের উত্তরে সারি শহরেও তাদের মিছিল করতে দেখা যায়।

ওই মিছিলে খামেনির বিরুদ্ধে এবং নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলাভির পক্ষে স্লোগান দেওয়া হয়য়। কয়েকটি ভিডিওতে গুলির শব্দ ও বিক্ষোভকারীদের দৌড়ে পালাতে দেখা গেছে।

রোববার সন্ধ্যায় ইলাম, আরাক, হামেদান, আমোল, লাহিজান, কেরমানশাহ, মালেকশাহী, সেমনান ও নূরাবাদ প্রদেশেও বিক্ষোভ হয় বলে জানায় বিবিসি পার্সিয়ান।

ইরানের একটি হাসপাতালে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে আহত বিক্ষোভকারীরা আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে মানবাধিকার কর্মীরা জানিয়েছেন।

২০২২ সালে পুলিশ হেফাজতে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর বিক্ষোভ হয়েছিল। তারপর এটিই ইরানে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

বিবিসি জানায়, সাম্প্রতিক এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয় গত ২৮ ডিসেম্বর। তেহরানের দোকানদাররা ডলারের বিপরীতে রিয়ালের বড় দরপতনের প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন।

রিয়ালের মান রেকর্ড পরিমাণ কমেছে এবং পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে নিষেধাজ্ঞার চাপে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশে।

পরে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরাও বিক্ষোভে যোগ দিলে আন্দোলন দ্রুত দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যায়যায়কাল এর সর্বশেষ সংবাদ