শুক্রবার, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ,১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

রাজশাহীতে পুরনো ঘটনা দেখিয়ে এএসপির নামে মামলা: অভিযোগ বোয়ালিয়া থানার ওসি রবিউলের বিরুদ্ধে

পাভেল ইসলাম মিমুল, উত্তরবঙ্গ: ৩৮তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের মেধাবী কর্মকর্তা এএসপি আসিফ আল হাসান বর্তমানে একাধিক সাজানো মামলার অভিযোগে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

পরিবারের দাবি, তার সাবেক স্ত্রী সুবর্না সুলতানা সুমী দেশের বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডিভোর্সের পর একের পর এক মামলা দায়ের করে এএসপি আসিফ আল হাসান কে হয়রানি করা হচ্ছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, কখনো ঢাকায়, কখনো রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের আওতাধীন এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন ঘটনা দেখিয়ে মামলার প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।

অনুসন্ধান সূত্রে জানা গেছে, এসব মামলার পেছনে পরিকল্পিত ও প্রতিহিংসামূলক উদ্দেশ্য কাজ করছে। সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে গত ২২ ডিসেম্বর, যখন বোয়ালিয়া থানায় তিন বছর দুই মাস আগের একটি কথিত ঘটনা সামনে এনে ডিভোর্সের পর অপর আরেকটি মিথ্যা মামলায় ইতোমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এএসপি আসিফ আল হাসানের নামে মামলা গ্রহণ করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, মামলাটি সম্পূর্ণ ভুয়া, মিথ্যা ও বানোয়াট।

আরও অভিযোগ করা হয়,বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম নিজেই সাবেক স্ত্রীকে বর্তমান স্ত্রী দেখিয়ে মামলা গ্রহণ করেছেন,যা রাজশাহীতে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

একটি গোপন সূত্র জানিয়েছে, এএসপি আসিফ আল হাসানের সঙ্গে ওসি রবিউল ইসলামের সম্পর্ক ও ভূমিকা নিয়েও নানা সন্দেহ তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে কোন প্রেক্ষাপটে একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা (এএসপি)’র নামে এত পুরনো ও বিতর্কিত ঘটনায় মামলা নেওয়া হলো? এর পেছনে কি শুধুই ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্ক, নাকি আরও কোনো প্রভাবশালী মহল সরাসরি জড়িত? বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা অনুসন্ধান চালাচ্ছেন।

এদিকে, এএসপি আসিফ আল হাসানের বাবা সাবেক অতিরিক্ত সচিব (অব:) সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, “আমার ছেলেকে ভুয়া মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। যতটুকু জানতে পারি,পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি সহায়তা করছেন। আমি খুব শীঘ্রই সংবাদ সম্মেলন করব। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার কাছে আমি অভিযোগ দিয়েছি এবং আশা করি ন্যায্য বিচার পাবো।”

সচেতন মহলের মতে, একজন মেধাবী ও সৎ পুলিশ কর্মকর্তাকে পরিকল্পিতভাবে একের পর এক মামলায় জড়ানো হলে তা শুধু ব্যক্তিগত জীবনের জন্য নয়,পুরো পুলিশ প্রশাসনের ভাবমূর্তির জন্যও উদ্বেগজনক। তারা এ ঘটনায় নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে মামলারবাদি সুর্বনা সুলতানাকে মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলে ফোন রিসিভ করেননি। তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, এএসপি আসিফ আল হাসান ট্রেনিংকালীন সময়ে সার্কিট হাউসে তার স্ত্রীকে মারধর করেছেন—এমন অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “প্রাথমিক যাচাইয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় আমি নিজেই মামলাটি রেকর্ড করেছি। আমাকে কেউ ফোন করেনি বা কোনো চাপ প্রয়োগ করেনি।”

প্রতিবেদকের এক প্রশ্নের জবাবে ওসি রবিউল ইসলাম জানান, অভিযোগকারী নারী এর আগেও একাধিক মামলা করেছেন।

তবে তিনি বলেন, “এটি ভিন্ন একটি ঘটনা। অন্য জায়গার ঘটনায় আলাদা মামলা হয়েছে। এই মামলাটি প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় গ্রহণ করা হয়েছে।”

ওসি আরও জানান, মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মেডিকেল রিপোর্ট (ছাড়পত্র) পাওয়ার পরই মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা বর্তমানে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

তিনি বলেন, “তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে। প্রয়োজনে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এমসিআর (এমএলসি) সংক্রান্ত আবেদনও তদন্তকারী কর্মকর্তা করবেন।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, আমি ঘটনা আপনার কাছে শুনলাম। তবে মামলাটি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হবে।ঘটনার সত্যতা না পেলে মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

, বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যায়যায়কাল এর সর্বশেষ সংবাদ