
সুমন আল-মামুন, হরিণাকুণ্ডু (ঝিনাইদহ): ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার হরিশপুর লালণ একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এই পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়।
এই উৎসবে শিক্ষার্থীরা প্রায় ৩০ থেকে ৫০ রকমের পিঠা নিয়ে হাজির হন। প্রতিটি প্লেটে সাজানো আছে হরেক রকম পিঠা। এসব সুস্বাদু পিঠা খেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলেছেন স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, অতিথি ও দর্শনার্থীরা।
স্কুল সূত্রে জানা গেছে, সাহিত্য-সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় দিনভর স্কুল মাঠে পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়। স্কুল প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন নামে স্টল স্থাপন করে বাহারি রকমের পিঠা নিয়ে বসে ছিলেন।
সুমাইয়া সুলতানা নামে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী নানান পিঠার পসরা সাঁজিয়েছেন তাদের স্টলে। তার সঙ্গে রয়েছেন মাইমুনা,শারমিন, বাবলি, সুমাইয়া, সাদিয়া, জুলিয়া, আকিব, রাজসহ একই ক্লাসের সহপাঠী। তাদের স্টলে রয়েছে ইলিশ পিঠা, গোলাপ পিঠা, দুধ চিতই, নকশি পিঠা, ভাপা, ছাদ পিঠা, শামুক পিঠা, পাটিসাপটা, শর্ষে ভর্তা, গ্রিল, মালাই রোলসহ প্রায় ২৫ রকমের পিঠা। স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা সারা রাত জেগে পরিবার ও বন্ধুরা কষ্ট করে বানিয়েছেন এসব হরেক রকমের নানান পিঠা।
ইসরাত নামে ৮ম শ্রেণীর এক ছাত্রী বলেন, রাত জেগে মায়ের সঙ্গে তিনি ১৫ রকমের পিঠা বানিয়েছেন। সহপাঠীরা মিলে প্রায়, ৪০ রকমের পিঠা বানিয়েছি। পিঠা উৎসবে পিঠা এনে বিক্রি করতে পেরে আমাদের খুবই ভাল লাগছে। শিক্ষা জীবনে আমাদের স্কুলে তৃতীয়বান পিঠা উৎসব হচ্ছে তাই আমরা খুবই আনন্দীত। তাঁদের স্টলে এসে সহপাঠীসহ, ইসরাত, সুসমিতা, মায়া, জাকিয়া, জান্নাতুল, রাবেয়া সনিয়া সহ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অতিথিরা পিঠা খেয়েছেন।
একই স্কুলের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী বলেন, তারা ৬ষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীরা সবাই মিলে এ পিঠা উৎসবে অংশগ্রহন করি। পিঠা উৎসবে অংশগ্রহণ করতে পেরে ভালো লাগছে।
তিনি বলেন, এবারের ন্যয় প্রতিবছরে যদি এমন পিঠা উৎসবের আয়োজন করে। তাহলে স্কুলের ছোট বড় সবাই নতুন নতুন পিঠা সম্পর্কে জানতে পারবে।
পিঠামেলায় আয়োজকদের একজন স্কুলের শিক্ষক শাহাবুদ্দিন জানান, তৃতীয়বারের মতো স্কুলে পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়। এ সময় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অতিথিদের পদচারণে মুখর হয়ে ওঠে স্কুল মাঠ প্রাঙ্গণ। তিনি বলেন, সব স্টলে সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে বাহারি রকমের পিঠা।
পিঠা উৎসবে এসেছিলেন সানজিদা নামে স্কুলের প্রঙ্গন শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, ছোটবেলায় মা-দাদিদের পিঠা বানানোর কথা মনে পড়ে যায়। সুস্বাদু পিঠার মৌ মৌ সুগন্ধে ভরে গেছে স্টল। বিভিন্ন স্টল থেকে তিনি কয়েক রকমের পিঠা কিনে খেয়েছেন।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক, লাভলী ইয়াসমিন(ভারপ্রাপ্ত) বলেন, ১৯৯৩ সালে স্কুল প্রতিষ্ঠিত। দীর্ঘসময় পাড়ি দেওয়ার পর এবার ২০২৬ সাল তৃতীয় বারের মতো পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীদের উৎসহ থেকেই এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্কুলে কোমলমতি শিক্ষার্থী শিক্ষক দর্শনার্থীরা সবাই সুশৃঙ্খল ভাবে উপভোগ করেছেন।











