
আব্দুর রহমান, সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরার সবকটি আসনে জয় পাওয়ার পর শুকরানা নামাজ আদায় করে সাতক্ষীরাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন জেলার চারটি আসনে জয় পাওয়া সংসদ সদস্যরা।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে ফলাফল গ্রহণের পর অভিমত ব্যক্ত করেন প্রথমবারের মতো সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনে জয় পাওয়া জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ মুহাঃ ইজ্জত উল্লাহ, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারী সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা) আসনে বড় ব্যবধানে জয় পাওয়া মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য সাতক্ষীরা জামায়াতের সাবেক আমীর সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালীগঞ্জ) আসনে জয় পাওয়া হাফেজ মুহাঃ রবিউল বাসার এবং বার বার নির্বাচিত সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনে জয় পাওয়া জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে নতুন সাতক্ষীরা বিনির্মাণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
তালা কলারোয়া আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাঃ ইজ্জত উল্লাহ তাকে নির্বাচিত করায় সকল ভোটার ভাই বোনদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ও অভিনন্দ জানিয়ে বলেন, তাদেরকে মোবারকবাদ যারা সাতক্ষীরার চারটি আসনে জামায়াত মনোনিত প্রার্থীদের বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছেন। চাঁদা ও সন্ত্রাস মুক্ত করার অঙ্গিকার নিয়ে আমরা মাঠে নেমে ছিলাম, সেটা আমরা করবো। আমরা আগামী দিনে সাতক্ষীরা মানুষের উপর হয়রানি হোক, জুলুম হোক এটা যাতে আর না হয় আমরা সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নিব।
তিনি বলেন, একটি মডেল সাতক্ষীরা গড়ে তুলতে জেলা প্রশাসককে রূপ রেখা তেরি করতে বলেছি। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে স্বপ্ল ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনার ভিত্তিতে সাতক্ষীরা সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস দেন।
বিপুল ভোটে বিজয়ী সাতক্ষীরা ২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেন, জনতার ন্সেহ, মায়া, মমতা ও ভালবাসাকে সাথে নিয়ে আল্লাহর কৃপায় আমাদের চারজন প্রতিনিধিকে নির্বাচিত করায় সকল জনগণকে আমরা শুভেচ্ছা জানায় ও অভিননন্দন জানায়। যে উদ্দেশ্য নিয়ে জনগণ আমাদের নির্বাচিত করেছেন আমরা যেন সেই উদ্দেশ্য সমাধান করে নতুন একটা সাতক্ষীরা গড়তে পারি।
সাতক্ষীরা ৩ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস রবিউল বাশার বলেন, সাতক্ষীরাবাসী আমাদের নির্বাচিত করায়, বিশেষ করে দেবহাটা ও কালিগঞ্জ বাসির কাছে আমরা ’চির ঋণী’। আমরা সাতক্ষীরাবাসীর কাছে কৃতজ্ঞতা ও শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি। একই সাথে দুর্নীতিমুক্ত জেলা গড়ার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।
সাতক্ষীরা ৪ আসনের বার বার নির্বাচিত এমপি গাজী নজরুল ইসললাম তাকে নির্বাচিত করায় শ্যামনগর তথা উপকূলবাসীর পক্ষ থেকে সবাইকে শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়ে বলেন, সমগ্র সাতক্ষীরার উন্নয়নে যেখানে যা ত্রুটি বিচ্যুত অসুবিধা আছে, সকল পেশি শক্তির মোকাবেলা, দুর্নীতি মুক্ত, চাঁদাবাজি মুক্ত একটা সুন্দর সাতক্ষীরা গড়ার জন্য আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। অবকাঠামো, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন এবং সকল দিক থেকে আমরা চেষ্টা করবো যাতে করে চেষ্টা করবো সাতক্ষীরাকে আমরা একটা উন্নয়নের রোল মডেল তৈরি করতে পারি।
সাতক্ষীরা জামায়াতের পক্ষে চার জন্য সংসদ সদস্য নির্বাচিত করায় জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল বলেন, দলমত নির্বিশেষে ক আমাদের ভোট দিয়েছেন আর কে দেননি সে প্রশ্ন আমাদের কাছে মুখ্য নয়। তিনি বলেন, সকলকে নিয়ে ৫৪ বছরের পিছিয়ে পড়া অধিকার বঞ্চিত সাতক্ষীরার অধিকার আদায়ের ব্যাপারে আমাদের সংসদ সদস্যগণ সম্মিলিত ভাবে প্রয়াস চালিয়ে যাবেন ইনশাল্লাহ।
এর আগে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতার জয় পাওয়া চার সংসদ সদস্যের কাছে চূড়ান্ত ফলাফল তুলে দেন।
এসময় জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, নায়েবে আমীর ডা. মাহমুদুল হক, সেক্রেটারী মাওলানা আজিজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারী মাহবুবুল আলম, অধ্যাপক ওবায়দুল্লাহ, অধ্যাপক ওমর ফারুক, শহর শিবিরের সভাপতি আল মামুন, আসন পরিচালক এবং উপজেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ।
এদিকে সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) এ আসনে ১৬৯টি কেন্দ্রের (পোস্টাল ভোটসহ) ফলাফলে জামায়াতের মুহাঃ ইজ্জত উল্লাহ ২৩ হাজার ৭৭৭ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। তার প্রাপ্ত ১ লাখ ৯৩ হাজার ৭৭২। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব।
সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা) এ আসনে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন জামায়াত নেতা মুহাদ্দিস আবদুল খালেক। ১৮১টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী মো. আবদুর রউফ এর চেয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৬৬ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন তিনি।
সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালীগঞ্জ) এই আসনে জয় পেয়েছেন জামায়াতের হাফেজ মুহা. রবিউল বাসার। ১৬৬টি কেন্দ্রের ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৮৪ হাজার ২৩৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্র প্রার্থী শহিদুল আলম পেয়েছেন ১ লাখ ৫ হাজার ৩৮৯ ভোট। রবিউল বাসার ৭৮ হাজার ৮৪৪ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন।
সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) এ আসনে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলাম। ৯৭টি কেন্দ্রের ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬ হাজার ৯১৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মো. মনিরুজ্জামান পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪২৬ ভোট। গাজী নজরুল ইসলাম ২১ হাজার ৪৮৭ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন।











