
যায়যায়কাল ডেস্ক: ইরানকে প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেওয়ার এবং দেশটির প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাত হানার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর ওয়াশিংটন ডিসির স্থানীয় সময় গত বুধবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম টেলিভিশন ভাষণে তিনি এ হুমকি দেন। কিন্তু এক মাস পার হয়ে যাওয়া ব্যয়বহুল এ যুদ্ধের ইতি কবে টানা হবে, তা নিয়ে তিনি স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।
অথচ যুদ্ধের ফলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব মার্কিন নাগরিকদের জীবনেও প্রভাব পড়তে শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টির রাজনীতিবিদেরা ট্রাম্পের জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
ডেমোক্র্যাট নেতারা বলেছেন, ইরানকে হুমকি দিয়ে ট্রাম্পের দেওয়া ভাষণ নিন্দনীয়, ভয়াবহ ও অশুভ মানসিকতার প্রকাশ।
মার্কিন সিনেটের সংখ্যালঘু ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘ইরান নিয়ে ট্রাম্পের পদক্ষেপ আমাদের দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নীতিগত ভুলগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হবে। …ট্রাম্প লক্ষ্য নির্ধারণে ব্যর্থ হচ্ছেন। তিনি মিত্রদের দূরে ঠেলে দিচ্ছেন। সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের দৈনন্দিন অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো উপেক্ষা করছেন।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে আগ্রাসন শুরু করে। হামলার পর থেকে হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বন্ধ হওয়ায় জ্বালানির দাম বাড়তে থাকে। গত বুধবার ট্রাম্পের ভাষণের পর জ্বালানির দাম পাঁচ ডলার বেড়েছে। গতকাল প্রতি ব্যারেলে জ্বালানি ১০৮ থেকে ১০৯ ডলারে বিক্রি হয়েছে।
ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর ক্রিস ভ্যান লিখেছেন, ‘ট্রাম্প দুই সপ্তাহ আগে দাবি করেছিলেন, “আমরা জয়ী হয়েছি।” তখন তিনি পুরো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিথ্যা বলেছিলেন। …এই বিভ্রান্ত মানুষটি আমাদের দেশ এবং বিশ্বের জন্য এক চরম বিপদ।’
যুদ্ধ শেষ করার জন্য একটা চুক্তিতে রাজি হতে ডোনাল্ড ট্রাম্প এ পর্যন্ত ইরানকে তিনবার সময়সীমা দিয়েছেন। সর্বশেষ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ইরানকে সময় দিয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে যুদ্ধবিরতিতে রাজি না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। বুধবারের ভাষণে তিনি আবারও একই হুমকি দেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘আগামী দু–তিন সপ্তাহের মধ্যে আমরা তাদের (ইরানকে) সেই প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যাব, যেখানে তাদের থাকা উচিত।’
বুধবার ভাষণের কয়েক ঘণ্টা আগে এক পোস্টে ট্রাম্প একই হুমকি দিয়েছিলেন। কিন্তু বেসামরিক জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালানো আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অবৈধ। এ ধরনের হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
ট্রাম্পের এ ধরনের হুমকির প্রতিক্রিয়ায় কংগ্রেসওম্যান ইয়াসমিন আনসারি এক্সে লিখেছেন, ‘৯ কোটি মানুষের একটি দেশকে প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে নেওয়ার ট্রাম্পের হুমকি নিন্দনীয়, ভয়াবহ ও অশুভ মানসিকতার প্রকাশ।’
ইরানকে প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকির তীব্র সমালোচনা করেছে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর)। সংস্থাটি ট্রাম্পের এ মন্তব্যকে ‘মুসলিমবিদ্বেষী, বর্ণবাদী ও অমানবিক’ বলে মন্তব্য করেছে। সেই সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে তারা মার্কিন আইনপ্রণেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গ টেনে কংগ্রেসম্যান জিম হাইমস লিখেন, ‘ট্রাম্পের ভাষণ শেষ হওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে পাঁচ ডলার বেড়ে গেছে। …ট্রুথ সোশ্যালে (ট্রাম্পের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম) তিনি আজ এক উন্মাতাল রাত কাটাতে যাচ্ছেন। তবে তিনি (ট্রাম্প) আসলে কী বলেছেন, সে ব্যাপারে আমি এখনো নিশ্চিত নই।’
ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ভাষণে মার্কিন মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে ভুল তথ্য দিয়েছেন। সেই দিকে ইঙ্গিত করে কংগ্রেস সদস্য লয়েড ডগেট বলেছেন, ট্রাম্পের ভাষণ থেকে ‘সবচেয়ে বড় মিথ্যাটি’ বেছে নেওয়া কঠিন। তবে যুক্তরাষ্ট্রে ‘কোনো মুদ্রাস্ফীতি নেই’ বলে তিনি যে দাবি করেছেন, সেটিই সম্ভবত সবচেয়ে বড় মিথ্যা হিসেবে বিজয়ী হবে।











