বুধবার, ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ,২০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পল্লবীতে পাশের ফ্ল্যাটের খাটের নিচে মিলল মাথাবিহীন ছোট্ট রামিসার দেহ

যায়যায়কাল প্রতিবেদক: রাজধানীর পল্লবীর পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল রামিসা আক্তার, রোল নম্বর ছিল এক। প্লে ও কেজিতে দ্বিতীয় স্থান অর্জনের পর প্রথম শ্রেণিতে রোল হয় এক।

এমন ভালো ফলাফলের কারণে স্কুল থেকে পাওয়া ট্রফিগুলো ঘরে সাজানো, কিন্তু নেই রামিসা।

মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে পল্লবী এলাকায় রামিসার বাসার পাশের ফ্ল্যাট থেকে তার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে পরিবারের সঙ্গে থাকত মেয়েটি, বাবার নাম আবদুল হান্নান মোল্লা।

বিকেলে ওই বাসায় গিয়ে দেখা যায়, রামিসার ১০ বছর বয়সী বড় বোন রাইসা আক্তার বারবার রামিসার ট্রফিগুলোর দিকে দেখছিল। রাইসা বলে, আমার বোন ভালো ছাত্রী ছিল। সে পড়াশোনায় ছিল খুব মনোযোগী।

কথাগুলো বলতে বলতে আবার রামিসার ট্রফিগুলোর দিকে তাকাতে থাকে সে।

রামিসার মা পারভিন বেগম সাংবাদিকদের বলেন, সকালে স্কুলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল রামিসা। বড় মেয়ে রাইসা আমাকে বলে অন্য বিল্ডিংয়ে চাচার বাসায় যায়। আমি মনে করেছিলাম, রামিসাও তার সঙ্গে গেছে।

‘কিছুক্ষণ পর হঠাৎ রামিসার চিৎকার শুনে আমি তাকে খুঁজতে যাই। ঘর বের হয়ে পাশের সোহেলদের ফ্ল্যাটের দরজার সামনে রামিসার একটা জুতা দেখতে পাই। তখন তাদের দরজায় ধাক্কা দেই। বারবার ধাক্কা দিলেও কেউ দরজা খুলছিল না,’ বলেন পারভিন।

তিনি আরও বলেন, ‘পরে আশপাশের মানুষ এসে দরজা ভেঙে আমার মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে। এটুকু সময়ের মধ্যেই ওরা আমার মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে।’

চাচা এ কে এম নজরুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়রা দরজা ভেঙে ভেতরে সোহেলের স্ত্রীকে দেখতে পান। বিছানার নিচে লুকানো ছিল রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ। আর মাথা উদ্ধার করা হয় বাথরুমের একটি বালতির ভেতর থেকে।

তিনি বলেন, ‘সোহেল জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। বারবার ধাক্কা দেওয়ার পর তার স্ত্রী দরজা খোলেনি। স্বামীকে পালিয়ে যেতে তিনি সাহায্য করেছেন।’

বিকেলে রামিসার স্কুলে গিয়ে দেখা যায় সেখানে শোকাবহ পরিবেশ।

রামিসার ক্লাস টিচার মাহবুবুল হাকিম বলেন, প্রথম শ্রেণির ক্লাস সকাল ১১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত চলে। রামিসা সবসময়ই ১০ মিনিট আগে স্কুলে চলে আসত। আজ সে না আসায় একটু চিন্তায় ছিলাম। এর মধ্যে শুনি তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা মেনে নেওয়ার মতো নয়।

পপুলার মডেল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, রামিসা প্লে থেকে এ স্কুলে পড়াশোনা করছিল। সে কেজি ও নার্সারি শ্রেণিতে দ্বিতীয় স্থান এবং প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেছিল। তাকে তার মা স্কুলে নিয়ে আসতেন ও আবার নিয়ে যেতেন। এ ধরনের ঘটনায় আমরা ক্ষুব্ধ। আগামীকাল স্কুলে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে।

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির বলেন, অভিযুক্ত সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. মোস্তাক সরকার বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত সোহেল আত্মগোপনে চলে যান। তবে ঘটনার ১০ ঘণ্টার মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

, বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যায়যায়কাল এর সর্বশেষ সংবাদ