
যায়যায়কাল প্রতিবেদক: সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত নিম্ন আদালতের ১৫ জন বিচারককে সচিবালয় থেকে সরিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করেছে সরকার।
একইসঙ্গে সচিবালয়ের কার্যক্রম আপাতত স্থগিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার আইন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে একটি গেজেট প্রকাশ করে জানায়, এই ১৫ বিচারককে ১০ এপ্রিল থেকে আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে সংযুক্ত করার সিদ্ধান্তটি রেট্রোস্পেক্টিভ এফেক্ট দিয়ে কার্যকর করা হয়েছে। অর্থাৎ ১০ এপ্রিল থেকেই তাদের সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় থেকে সরিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে।
এই ১৫ জনের মধ্যে ১০ জন জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদার বিচারক, যাদের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত শেখ আশফাকুর রহমানও রয়েছেন। বাকি ৫ জন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, যুগ্ম জেলা জজ এবং সিনিয়র সহকারী জজ পর্যায়ের কর্মকর্তা।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গত বছরের ৩০ নভেম্বর ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করে। এরপর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ গত ১০ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের উদ্বোধন করেন, যার লক্ষ্য ছিল বিচার বিভাগের নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টের অধীনে এনে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ওই ১৫ জন বিচারকসহ আরও কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দায়িত্ব দেওয়া হয় বলে সুপ্রিম কোর্ট সূত্র জানায়।
এদিকে গত ২ এপ্রিল বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদিনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা কয়েকটি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করে মোট ২০টি অধ্যাদেশ বাতিল বা স্থগিতের সুপারিশ করে, যার মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশও ছিল।
পরদিন ৩ এপ্রিল আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলো আরও পর্যালোচনা করা হবে এবং সংশোধনের পর সেগুলো সংসদে বিল আকারে উপস্থাপন করা হবে।
তিনি জানান, এসব অধ্যাদেশ পুরোপুরি বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়নি, বরং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পরামর্শের জন্য সময় নেওয়া হচ্ছে।











