
যায়যায়কাল প্রতিবেদক: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করেছে দুবাই পুলিশ।
বাংলাদেশের পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র এআইজি শাহাদাত হোসেন রোববার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, দুদকের মামলায় ইন্টারপোলের সহযোগিতায় বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে ১২ জুন একটি চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছে সংশ্লিষ্ট পক্ষ।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুদকের একটি মামলায় ইন্টারপোলের সহায়তায় দুবাই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে।’
পরে সংসদ অধিবেশনে তিনি বলেন, ‘তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’
সাবেক এই পুলিশ প্রধানের বিরুদ্ধে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তদন্ত করছে দুদক।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক থাকাকালে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়া বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে জমি দখলে দুটি পদ্ধতি ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে—সরাসরি ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং পরোক্ষ চাপ প্রয়োগ।
দুদকের অনুসন্ধানে এ পর্যন্ত জানা গেছে, বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন জেলায় অন্তত ৬১৩ দশমিক ৪১ বিঘা জমি কিনেছেন। এর মধ্যে গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুরে ৬০৫ দশমিক ৭৭ বিঘা জমি রয়েছে, যেগুলোর মালিকানা একসময় হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের ছিল।
তিনি নিজ জেলা গোপালগঞ্জে সাভানা ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল পার্কসহ অধিকাংশ সম্পদ গড়ে তোলেন র্যাবের মহাপরিচালক (জানুয়ারি ২০১৫–এপ্রিল ২০২০) এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (এপ্রিল ২০২০–সেপ্টেম্বর ২০২২) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে।
বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি ছিলেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে র্যাবের সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তার মধ্যে বেনজীর আহমেদের নামও ছিল।
২০২৪ সালে গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েক মাস আগে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তা নিয়ে তদন্তে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তখনই তিনি দেশ ছেড়েছিলেন। এরপর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে।
গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন আদালত।
এর আগে ৭৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে বেনজীর আহমেদ এবং তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর পৃথক চারটি মামলা করে দুদক।
বেনজীর আহমেদ ও তার স্ত্রী-সন্তানদের বিরুদ্ধে করা মামলায় বলা হয়, বেনজীর ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ২ কোটি ৬২ লাখ টাকা সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। তার স্ত্রী জীশান মীর্জা ৩১ কোটি ৬৯ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ১৬ কোটি ১ লাখ টাকার তথ্য গোপন করেছেন। তাদের বড় মেয়ে ফারহীন রিশতা বিনতে বেনজীর ৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকার এবং মেজ মেয়ে তাহসীন রাইসা বিনতে বেনজীর ৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।
এর আগে ২০২৪ সালের ১২ জুন বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী ও সন্তানদের নামে থাকা ৮টি ফ্ল্যাট এবং ২৫ একর (১ একর সমান ৬০ দশমিক ৫ কাঠা) ২৭ কাঠা জমি জব্দ করার (ক্রোক) আদেশ দেন আদালত। এসব ফ্ল্যাট ঢাকার বাড্ডা ও আদাবরে এবং জমি নারায়ণগঞ্জ, বান্দরবান ও উত্তরায়। এ ছাড়া দুই দফায় বেনজীর ও তার পরিবারের নামে গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুরে ৬২১ বিঘা জমি, ১৯টি কোম্পানির শেয়ার, গুলশানে ৪টি ফ্ল্যাট ক্রোকের আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। এ ছাড়া ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, ৩৩টি ব্যাংক হিসাব এবং ৩টি বিও হিসাব (শেয়ার ব্যবসার বেনিফিশিয়ারি ওনার্স অ্যাকাউন্ট) অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন আদালত।











