মঙ্গলবার, ২৭শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ,১১ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নারীর জরায়ু ক্ষতিগ্রস্ত ও পেট ছিদ্র

রাজশাহীতে ক্লিনিক মালিক ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, তদন্ত শেষ হলেও নিরব স্বাস্থ্য বিভাগ

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে কোনো রেজিস্টার্ড চিকিৎসক ছাড়াই অস্ত্রোপচার চালিয়ে এক নারী রোগীর জরায়ু মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত এবং পেট ছিদ্র করার অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার বিষয়ে তদন্ত শেষ হওয়ার ১০ দিন পার হয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়নি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

অভিযুক্ত কাকনহাট সেবা ক্লিনিক অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার এর কার্যক্রম এখনো বহাল তবিয়তে চলায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ক্লিনিকটির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দেলশাদপুর গ্রামের রুপলাল কিসকুর স্ত্রী নিলুফা হেমরমকে গত ২১ মে কাকনহাট সেবা ক্লিনিকের কর্মচারী মেহেদী হাসান সুমন ফুসলিয়ে ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখানে দক্ষ ও রেজিস্টার্ড ডাক্তার দিয়ে ডি অ্যান্ড সি (D&C) করানোর কথা বলা হলেও বাস্তবে ক্লিনিকের মালিক স্বপন ও তার স্ত্রী জুঁই নিজেরা মিলে এই অস্ত্রোপচার চালান। ভুল চিকিৎসায় রোগীর পেট ছিদ্র হয়ে গুরুতর জটিলতা তৈরি হয় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরবর্তীতে সংকটাপন্ন অবস্থায় তাকে রাজশাহীর খ্রিস্টান মিশন হাসপাতালে ভর্তি করে জরুরি অস্ত্রোপচার করানো হয়। চিকিৎসা চালাতে গিয়ে পরিবারের প্রায় ৩ লাখ ৮ হাজার ৩৯১ টাকা খরচ হয়ে তারা নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন এবং বর্তমানে ৫ ব্যাগ রক্ত দেওয়া ভুক্তভোগী নারী চরম শারীরিক ভোগান্তিতে দিন কাটাচ্ছেন।

এ ঘটনায় গত ৩০ জুলাই ভুক্তভোগীর স্বামী রূপলাল কিসকু ও নিলুফা হেমরম রাজশাহী জেলা সিভিল সার্জন বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পর সিভিল সার্জন ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করলে কমিটি সরেজমিনে গিয়ে সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ করে।

এ ব্যাপারে রাজশাহী জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস.আই.এম রাজিউল করিম জানান, তদন্ত কার্যক্রম ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে যেভাবে নির্দেশনা আসবে, সে অনুযায়ী যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইনগত ব্যবস্থার সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. মো. নুরুল ইসলাম বলেন, এই ক্লিনিকের বিরুদ্ধে খুব দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এর সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা হয়ে গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক স্যারের স্বাক্ষর সম্পন্ন হলেই আমরা সিভিল সার্জন অফিসে কাগজ পাঠিয়ে দেবো এবং মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে কাকনহাট সেবা ক্লিনিক অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক মেহেদী হাসান স্বপন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সিভিল সার্জন অফিসে একটি অভিযোগ হয়েছে এবং সে সাপেক্ষে তদন্ত চলছে। আপনারা যা তথ্য পাবেন লিখতে পারেন, আমার কোনো আপত্তি বা অনুরোধ নেই।

রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তিনি দাবি করেন, আমি বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত এবং ইউনিয়ন পরিষদের রানিং মেম্বার পদপ্রার্থী। তানোর থানায় বা আমার গ্রামে খোঁজ নিলেই তা জানতে পারবেন।

স্বাস্থ্য সচেতন মহল ও স্থানীয়দের দাবি, এমন গুরুতর অপচিকিৎসার তদন্ত শেষ হওয়ার পরও ক্লিনিক সিলগালা না করায় সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। তারা অবিলম্বে এই ভুয়া চিকিৎসা কেন্দ্রটি বন্ধ করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

, বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যায়যায়কাল এর সর্বশেষ সংবাদ