শনিবার, ১৪ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ,২৯শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সাতক্ষীরায় তরুণদের উদ্যোগ: শিশুদের সঙ্গে নিয়ে নদীর তীরে বৃক্ষরোপণ

এস এম আশরাফুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার: সকালের নরম আলো তখন নদীর জলে এসে পড়েছে। বেতনার তীরে শাল্য মাছখোলা এলাকায় একে একে জড়ো হচ্ছিলেন কয়েকজন বন্ধু। কারও হাতে অর্জুনের চারা, কারও হাতে জাম, কাঠবাদাম কিংবা জারুল।

তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও শিশুরাও। লক্ষ্য একটাই- নদীর তীর রক্ষা, পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা। শুক্রবার সকালে সাতক্ষীরা সদরের বেতনা নদীর শাল্য মাছখোলা তীরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছেন এসএসসি ২০০৭ ও এইচএসসি ২০০৯ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।

স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে নদীর তীরজুড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়। শাল্য সেতুর পাশ থেকে চেয়ারম্যানের বলফিল্ডের পাশ পর্যন্ত এলাকায় রোপণ করা হয় অর্জুন, জাম, কাঠবাদাম, কদবেল, জারুল, কৃষ্ণচূড়া ও কদমফুলের চারা। নদীর তীরকে সবুজ বেষ্টনীতে পরিণত করার পাশাপাশি এসব গাছ ভবিষ্যতে ছায়া, সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ভূমিকা রাখবে- এমন প্রত্যাশা আয়োজকদের।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা বলেন, নদী শুধু পানির প্রবাহ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে এলাকার মানুষের জীবন, জীবিকা ও পরিবেশ। নদীর তীর দখল, ভাঙন ও পরিবেশের নানা সংকটের পাশাপাশি নির্বিচারে গাছ কাটার কারণে প্রকৃতিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই নদীর তীরে বেশি বেশি গাছ লাগানো এবং সেগুলোর পরিচর্যা করা প্রয়োজন।

কর্মসূচিতে সফিউল আলম, এস এম আশরাফুল ইসলাম, রাহুল ব্যানার্জী, আব্দুল হালিম ও আজিজুর রহমানসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের সঙ্গে উৎসাহ নিয়ে অংশ নেয় স্থানীয় কোমলমতি শিশুরাও।

বৃক্ষরোপণের সময় শিশুদের হাতে যখন একেকটি চারা তুলে দেওয়া হচ্ছিল, তখন সেখানে তৈরি হয় অন্য রকম এক পরিবেশ। ছোট ছোট হাতে মাটিতে গর্ত করে চারা বসানো, তারপর মাটি চাপা দেওয়া- সবকিছুতেই ছিল আনন্দ ও আগ্রহ।

আয়োজকেরা মনে করেন, শিশুদের এমন পরিবেশবান্ধব কাজে যুক্ত করার মধ্য দিয়ে প্রকৃতির প্রতি তাদের দায়িত্ববোধও তৈরি হবে। এসএসসি ২০০৭ ও এইচএসসি ২০০৯ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগকে স্থানীয়রা স্বাগত জানিয়েছেন।

তাদের প্রত্যাশা, বেতনার তীরের এই সবুজায়ন কর্মসূচি শুধু একটি দিনের বৃক্ষরোপণে সীমাবদ্ধ থাকবে না; নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে একদিন এসব চারা বড় গাছে পরিণত হবে। তখন বেতনার তীর হয়ে উঠবে আরও সবুজ, শীতল ও প্রাণবন্ত।

আয়োজকদের ভাষায়, আজকের লাগানো একটি চারা হয়তো আগামী দিনের একটি বড় গাছ। সেই গাছের ছায়ায় দাঁড়াবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। তাই পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়- নদীর তীরের মানুষ থেকে শুরু করে সমাজের প্রত্যেকের। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই বেতনার তীরে ০৭০৯-এর এই বৃক্ষরোপণ।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

, বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যায়যায়কাল এর সর্বশেষ সংবাদ