
মোঃ হুমায়ুন কবির, সুনামগঞ্জ: ভাটি বাংলায় ঐতিহাসিকভাবে প্রচলিত মদ ও গাঁজার গণ্ডি পেরিয়ে এবার হাওরাঞ্চলে আশঙ্কাজনকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে সিন্থেটিক মাদক ইয়াবা।
সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে গত আগস্ট মাসজুড়ে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে মাদক কারবারের এই নতুন ও উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।
পুলিশের হালনাগাদ তথ্যমতে, আগস্ট মাসে দিরাই উপজেলায় পৃথক অভিযানে ১ হাজার ৭৪৯ পিস ইয়াবা, ১৩ লিটার দেশীয় চোলাইমদ, ২৫ গ্রাম গাঁজা এবং ২৪ বোতল অবৈধ ভারতীয় মদ জব্দ করা হয়েছে। একই সময়ে উদ্ধার করা হয়েছে চার কার্টন চোরাচালানকৃত ভারতীয় বিড়ি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নথি পর্যালোচনায় জানা যায়, গ্রামীণ জনপদ থেকে শুরু করে দিরাই পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় মাদকের বিস্তার ঘটছে। এর মধ্যে গত ২৪ আগস্ট চরনারচর ইউনিয়নের শ্যামারচর এলাকার খালপাড় হাটি ব্রিজে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৩০৫ পিস ইয়াবাসহ শিশ আহমদ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৬ লাখ ৫২ হাজার ৫০০ টাকা। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করে গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এদিকে এক মাসে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় দিরাইয়ের মাদক পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সচেতন মহল মনে করছে, মাদকের সরবরাহ বন্ধে শুধু খুচরা কারবারিদের গ্রেপ্তার নয়, এর পেছনে থাকা সরবরাহকারী ও মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।
সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, মাদকের প্রাদুর্ভাব রোধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে মাদক সরবরাহের রুট ও কারবারিদের মূল সংযোগস্থল শনাক্ত করতে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।











