মঙ্গলবার, ৪ঠা কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ,২০শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

এর সর্বশেষ সংবাদ

গাজীপুরে ১৬৮ পূজামণ্ডপে ৯৯ হাজার ৬০০ কেজি চাল বরাদ্দ, ব্যবহারের হিসাব কোথায়?

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, গাজীপুর: ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে সরকারি বরাদ্দের চাল যথাযথভাবে ব্যবহার ও বিতরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে গাজীপুরে।

জেলার ১৬৮টি পূজামণ্ডপের প্রতিটিতে ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়ে থাকলে মোট চালের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯৯ হাজার ৬০০ কেজি।

পূজামণ্ডপ কমিটির সভাপতি অথবা সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরের মাধ্যমে এসব চাল গ্রহণের তথ্য পাওয়া গেলেও, পরবর্তী সময়ে চালগুলো কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, কারা পেয়েছেন এবং বিতরণসংক্রান্ত হিসাব কোথায় সংরক্ষিত রয়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

সরকারি সহায়তা সাধারণ মানুষের কল্যাণে দেওয়া হয়। তাই বরাদ্দের চাল গ্রহণের পর তার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব। কিন্তু গাজীপুরের পূজামণ্ডপগুলোতে বরাদ্দ করা চালের চূড়ান্ত ব্যবহার সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য সামনে না আসায় বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

বরাদ্দের চাল কোথায় গেল?

প্রতিটি পূজামণ্ডপের জন্য ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দের তথ্য সঠিক হলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে—এই বিপুল পরিমাণ চাল কোন খাতে ব্যয় বা বিতরণ করা হয়েছে? পূজার আয়োজন, ভোগের ব্যবস্থা কিংবা অন্য কোনো নির্ধারিত কাজে চাল ব্যবহার করা হয়ে থাকলে তার হিসাব কীভাবে রাখা হয়েছে? আর অসচ্ছল ও দুস্থ মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়ে থাকলে তাঁদের তালিকা কোথায়?

চাল গ্রহণের সময় সংশ্লিষ্ট কমিটির সভাপতি অথবা সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর নেওয়া হয়ে থাকলে, সেই স্বাক্ষরযুক্ত নথি সরকারি দপ্তরে সংরক্ষিত থাকার কথা। তবে চাল গ্রহণের প্রমাণ থাকাই চূড়ান্ত ব্যবহার বা যথাযথ বণ্টনের প্রমাণ নয়। এ জন্য প্রয়োজন বিতরণ তালিকা, হিসাবের নথি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করা।

তদারকি করেছে কি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন?

সরকারি বরাদ্দের চাল সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে গাজীপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা চাল বিতরণ ও ব্যবহারের বিষয়ে কোনো তদারকি করেছেন কি না, সরেজমিনে যাচাই করা হয়েছে কি না এবং কোনো অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর জানা জরুরি।

একই সঙ্গে পূজামণ্ডপ কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়াও প্রয়োজন। তাঁদের কাছে জানতে হবে, বরাদ্দের চাল কী উদ্দেশ্যে গ্রহণ করা হয়েছিল, কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং এ-সংক্রান্ত হিসাব বা নথিপত্র রয়েছে কি না।

জনস্বার্থে জবাবদিহি প্রয়োজন

সরকারি বরাদ্দের প্রতিটি কেজি চালের সঠিক হিসাব থাকা জনস্বার্থের বিষয়। বরাদ্দ, উত্তোলন, পরিবহন, গ্রহণ এবং চূড়ান্ত ব্যবহার—প্রতিটি পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে। একই সঙ্গে কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত করা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, বরাদ্দ প্রদানকারী দপ্তর এবং পূজামণ্ডপ কমিটির বক্তব্য ও নথিপত্র যাচাই করে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা প্রয়োজন। অভিযোগ বা সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে দায়ী না করে তথ্য-প্রমাণের মাধ্যমে প্রকৃত পরিস্থিতি তুলে ধরাই হবে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার কাজ।

গাজীপুরবাসীর প্রশ্ন একটাই—১৬৮টি পূজামণ্ডপের জন্য বরাদ্দ করা ৯৯ হাজার ৬০০ কেজি চালের চূড়ান্ত ব্যবহার কী হয়েছে? কোথায় রয়েছে সেই চালের হিসাব, আর সরকারি সহায়তার সুফল কি যথাযথভাবে পৌঁছেছে নির্ধারিত কাজে ও উপকারভোগীদের কাছে?

এসব প্রশ্নের স্বচ্ছ ও তথ্যভিত্তিক উত্তর প্রত্যাশা করছেন সচেতন নাগরিকেরা।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যায়যায়কাল এর সর্বশেষ সংবাদ