সোমবার, ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ,২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

হবিগঞ্জে ৩৩ শতাংশ যানবাহন ফিটনেসবিহীন, বাড়ছে দুর্ঘটনা

মো. হাসান ভূঁইয়া, ​মাধবপুর (হবিগঞ্জ): হবিগঞ্জ জেলাজুড়ে ফিটনেসবিহীন ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনের সংখ্যা দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। অদক্ষ চালক, বেপরোয়া গতি ও ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।

বিশেষ করে সিএনজি অটোরিকশার বেপরোয়া গতির কারণে প্রায়ই মিলছে প্রাণহানির খবর, আবার অনেকেই আজীবনের জন্য পঙ্গুত্ববরণ করছেন।

তবে জেলা জুড়ে প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেলেও প্রশ্ন উঠেছে—এসব অনিয়ম থামাবে কে কিংবা কার্যকর তদারকিই বা করবে কে?

​এদিকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নিজস্ব পরিসংখ্যানেই উঠে এসেছে জেলার মোট নিবন্ধিত যানবাহনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই এখন সম্পূর্ণ ফিটনেসবিহীন।

​বিআরটিএ-এর তথ্য অনুযায়ী, হবিগঞ্জে বর্তমানে মোট নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা ৩১ হাজার ৮৬১টি। এর মধ্যে বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটি ও মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ১০ হাজার ৫০৪টি যানবাহনই ফিটনেসবিহীন অবস্থায় রয়েছে, যা মোট যানবাহনের প্রায় ৩৩.৯৭ শতাংশ।

​ফিটনেসবিহীন এসব যানের ধরণ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে অটোরিকশা। জেলার ৯ হাজার ৫৩৯টি অটোরিকশা ফিটনেস ছাড়াই চলাচল করছে। এছাড়া ১৭৩টি হিউম্যান হলার, ১৭৩টি পিকআপ, ১৩৯টি ট্রাক এবং ৯টি বাস যান্ত্রিক ত্রুটি ও মেয়াদোত্তীর্ণ ফিটনেস নিয়ে রাস্তায় নামছে।

​স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলায় চলাচলকারী অধিকাংশ চালকেরই কোনো বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। ফিটনেসবিহীন কিছু গাড়ি প্রতিনিয়ত জেলার ভেতরে প্রবেশ করছে এবং চলাচল করছে। যেসব চালকের পর্যাপ্ত দক্ষতা নেই, তারা অলিতে-গলিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং ট্রাফিক সিগন্যালের কোনো তোয়াক্কা করছেন না। এছাড়া এসব লক্কড়-ঝক্কড় যানবাহনের পেছনে ইন্ডিকেটর ভাঙা থাকে এবং হেডলাইট থাকে নিম্নমানের। মূলত এসব কারণে জেলায় একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে।

​যানবাহনের ফিটনেস নবায়ন ও তদারকির বিষয়ে বিআরটিএ হবিগঞ্জের সহকারী পরিচালক (অতিরিক্ত) জানান, যানবাহনের ফিটনেস যখন শেষ হয়ে যায়, তখন মালিকদের কাছে চিঠি পাঠানো হয় এবং তাদের মোবাইল নম্বরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেসেজ চলে যায়। এই মেসেজ যাওয়ার পর কেউ অফিসে আসেন, আবার কেউ আসেন না। যারা নির্দিষ্ট সময়ে আসেন না, তারা ডিফল্টার হয়ে যান।

​অন্যদিকে, সড়কের শৃঙ্খলা ও আইন প্রয়োগের বিষয়ে হবিগঞ্জের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর রেজাউল করিম খান বলেন, “আমরা প্রতিনিয়তই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিচ্ছি। কতগুলো গাড়ি ফিটনেসবিহীন রয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে আমাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

, বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যায়যায়কাল এর সর্বশেষ সংবাদ