মঙ্গলবার, ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ,২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

এর সর্বশেষ সংবাদ

নারিন্দায় হযরত শাহ আহসান উল্লাহ (রহ.)-এর ১০১তম ওরস আজ

মশুরীখোলা দরবার শরিফের শতবর্ষী ঐতিহাসিক মুহূর্তের একটি দুর্লভ ছবি

মো. হাসান ভূঁইয়া: রাজধানীর প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী এলাকা নারিন্দার মশুরীখোলা দরবার শরিফে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হচ্ছে মহান সুফিসাধক, দরবার শরিফের প্রতিষ্ঠাতা হযরত মাওলানা সুফি শাহ মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ (রহ.)-এর ১০১তম পবিত্র ওরস শরিফ।

আত্মশুদ্ধি, জিকির-আসকার ও আধ্যাত্মিক শক্তির খোঁজে প্রতিবছরের মতো এবারও দরবার শরিফে সমবেত হচ্ছেন দেশ-বিদেশের অগণিত ভক্ত ও আশেকানরা।

​আয়োজকদের সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর এই মহান সুফিসাধকের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভক্তি জানাতে দরবার প্রাঙ্গণে প্রায় ২০ থেকে ৩০ হাজার ধর্মপ্রাণ মানুষের মিলনমেলা ঘটে। ১৯২৬ সালে এই মাজার ও দ্বীনি কার্যক্রম প্রতিষ্ঠার পর থেকে শতাব্দীর পথ পেরিয়ে আজও পরম ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে দিনটি পালিত হয়ে আসছে।

​‘হযরত কেবলা’ নামে সর্বজনশ্রদ্ধেয় হযরত শাহ আহসান উল্লাহ (রহ.) বাংলায় ইসলাম প্রচার, দ্বীনি শিক্ষা বিস্তার ও আধ্যাত্মিক সাধনায় অনন্য অবদান রেখে গেছেন। দরবারের প্রকাশিত ইতিহাস অনুযায়ী, তিনি ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর বংশধর ছিলেন। ১৭৯৮ সালে ঢাকার আড়াইহাজারে জন্ম নেওয়া এই সুফিসাধক শৈশব থেকেই আরবি, ফারসি, হাদিস ও তাফসিরসহ বিভিন্ন ইসলামী শাস্ত্রে গভীর বুৎপত্তি অর্জন করেন।

​জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি তিনি জীবনের দীর্ঘ সময় আধ্যাত্মিক সাধনায় উৎসর্গ করেন। পবিত্র হজ পালন, জ্ঞানের খোঁজে বিভিন্ন অঞ্চলে সফর এবং তৎকালীন শ্রেষ্ঠ সুফিসাধকদের সঙ্গ লাভে তাঁর জীবন ছিল মহিমান্বিত। কাদেরিয়া তরিকার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত এই সাধক মানুষের অন্তরে ঈমান ও সুফিবাদের আলো ছড়িয়ে দেন।

​দ্বীনি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে ঢাকার ৪৭ শাহ সাহেব লেনে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন মসজিদ ও মাদ্রাসা। ১৯২৬ সালে এই মহান সাধকের ওফাতের পর নারিন্দায় তাঁর মাজারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা। বর্তমানে মাজার প্রাঙ্গণ ঘিরে পরিচালিত হচ্ছে এতিমখানা, হিফজখানা, মাদ্রাসা ও কলেজসহ একাধিক দ্বীনি ও আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যা আজও তাঁর স্মৃতি ও অবদানকে বহন করে চলেছে।

​আজকের এই ১০১তম ওরস উপলক্ষে দরবার শরিফে দিন ও রাতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ আয়োজন। দিনের ভাগে হযরত শাহ আহসান উল্লাহ (রহ.)-এর জ্যেষ্ঠ পুত্র শাহ আব্দুল আজিজের বংশধরদের উদ্যোগে এবং রাতে কনিষ্ঠ পুত্র শাহ আব্দুল লতিফের বংশধরদের উদ্যোগে পৃথক মিলাদ, ওয়াজ-মাহফিল, জিকির-আসকার ও তবারক বিতরণের আয়োজন রয়েছে। আধ্যাত্মিক এই ক্ষণে শরিক হতে ইতোমধ্যে দরবার প্রাঙ্গণ ভক্তদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যায়যায়কাল এর সর্বশেষ সংবাদ