
মো. হাসান ভূঁইয়া, মাধবপুর (হবিগঞ্জ): কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা নিয়ে মোট ৩১টি উপজেলা ও প্রায় ৮৯ লাখ মানুষের প্রশাসনিক সুবিধার্থে নতুন ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিভাগ’ গঠনের দাবি জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সদস্য কবীর আহমেদ ভূঁইয়া।
তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহকারী একান্ত সচিব-২ আব্দুর রহমান সানির বড় ভাই।
শুক্রবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে নতুন এই বিভাগের সদর দপ্তর ব্রাহ্মণবাড়িয়া করার প্রস্তাব করেন তিনি। তিন জেলার মানুষের প্রশাসনিক সুবিধা, আঞ্চলিক উন্নয়ন ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বিবেচনায় এ দাবি যৌক্তিক বলে মনে করেন এই বিএনপি নেতা। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে নিজের মতামত তুলে ধরেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, এ দাবির সঙ্গে অন্যদের দ্বিমত থাকতে পারে।
প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে কবীর আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, কিশোরগঞ্জের হাওর, কৃষি ও মৎস্যসম্পদ, হবিগঞ্জের গ্যাস, চা ও শিল্পাঞ্চল এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ নদীবন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও আখাউড়া স্থলবন্দরকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানো গেলে একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা সম্ভব। নতুন বিভাগ গঠিত হলে তিন জেলার মানুষের বিভাগীয় পর্যায়ের প্রশাসনিক সেবা নেওয়া সহজ হবে এবং উন্নত চিকিৎসা, উচ্চশিক্ষা, কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন, কৃষি ও মৎস্য খাতের উন্নয়ন এবং যোগাযোগব্যবস্থা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তবে নতুন বিভাগ গঠনের ক্ষেত্রে তিন জেলার সমান মর্যাদা ও উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনো জেলা অবহেলিত না হয়।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২২ সালের জনশুমারির তথ্য উল্লেখ করে পোস্টে জানানো হয়, কিশোরগঞ্জ জেলার জনসংখ্যা ৩২ লাখ ৬৭ হাজার ৬২৬ জন, হবিগঞ্জের ২৩ লাখ ৫৮ হাজার ৮৮৬ জন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৩৩ লাখ ৬ হাজার ৫৫৯ জন, অর্থাৎ প্রস্তাবিত এই বিভাগের মোট জনসংখ্যা ৮৯ লাখ ৩৩ হাজার ৭১ জন।
ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট
বাস্তব ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক দিক বিবেচনা করলে দেখা যায়, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলের মানুষের মধ্যে বর্ণ, আচরণ, স্বভাব, সংস্কৃতি ও ভাষার অনেকটাই মিল রয়েছে। ভৌগোলিক দূরত্বের দিক থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চল বর্তমানে চট্টগ্রাম বিভাগের অন্তর্ভুক্ত হলেও এখানকার মানুষের সাথে চট্টগ্রামের মূল সংস্কৃতির ওই মিলগুলো খুব একটা স্পষ্ট নয়। এছাড়া দূরত্বের দিক বিবেচনা করলে হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থা মূলত বেশি ঢাকা-কেন্দ্রিক। যেমন, হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা থেকে সিলেটের চেয়ে ঢাকার দূরত্ব কম। একইভাবে আশুগঞ্জ থেকে চট্টগ্রামের চেয়ে ঢাকার দূরত্ব কম হওয়ায় এই অঞ্চলের মানুষ যাতায়াতে ঢাকাকেই বেশি ব্যবহার করে। অন্যদিকে কিশোরগঞ্জের মানুষের সাথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের ভাষাগত দিক থেকেও গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।











