সোমবার, ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ,২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আক্কেলপুরে মসজিদের অনুদানের নাম ভেঙে হাটের খাজনা আদায়ের অভিযোগ

নিরেন দাস, জয়পুরহাট প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার পূণগোপিনাথপুর তিন মাথার মোড়েরহাটে আসা কৃষক ও পাইকারদের কাছ থেকে মসজিদের অনুদানের নাম করে খাজনার টাকা তুলছেন স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি। তারা ওই টাকা নিজেদের পকেটে রাখেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, উপজেলার পুণগোপিনাথপুর তিন মাথার মোড়ে বসা হাটে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কাঁচা মালের ব্যাপারীরা ওই হাটের কৃষকদের কাছ থেকে কাঁচা সবজি কিনে আবার বিভিন্ন হাটে গিয়ে বিক্রি করতে চলে যান।

সকাল ৬ টা থেকে ৮ টা পর্যন্ত মাত্র দুই ঘন্টার মধ্যেই তিনমাথার মোড়ের অস্থায়ী হাটের সব কেনা-বেচা শেষ হয়ে যায়।

এই সুযোগে হাটে স্থানীয় বাসিন্দা হুমায়ন কবির, মামুন হোসেন, মুকুল হোসেন, আব্দুল হামিদ এবং বোরহান উদ্দিন মসজিদের অনুদানের নামে ওই অস্থায়ী হাট থেকে খাঁজনার টাকা উত্তোলন করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ অস্থায়ী হাটের টাকা কেউ মসজিদে জমা দেন না। তারা নিজেদের পকেটে রাখেন। আবার কেউ যৎ সামান্য জমা দেন। এ ভাবে তারা প্রতিদিন হাট থেকে টাকা উত্তোলন করেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম বলেন, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি আমাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করেন, কিন্তু কোনও রশিদ দেন না। তারা বলেন এটা নাকি মসজিদের টাকা। আমরা মসজিদের নাম শুনে টাকা দিই। রশিদ ছাড়া টাকা নেয়া অন্যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, বোরহান উদ্দিন হাটের টাকা তোলেন। তিনি ওই টাকা কোথায় জমা দেন, তার হিসাব নিকাশ কেউ জানেন না। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এই অস্থায়ী হাটের টাকা তুলতে নিষেধ করেছিলেন, কিন্তু বোরহান উদ্দিন তা শোনেন নি। এখনো তিনি টাকা আদায় করছেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে বোরহান উদ্দিন বলেন, আমি একটি টাকাও নিজের পকেটে রাখি না। সব টাকা মসজিদে জমা দেই। কেউ আমার বিরুদ্ধে টাকা আত্বসাতের যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা মিথ্যা।

পূণগোপিনাথপুর সিনিয়র মাদরাসার অধ্যক্ষ ও মসজিদ কমিটির সভাপতি মোঃ মামনুর রশিদ বলেন, আমি বেশী কিছু জানিনা,তবে কয়েকজন যুবক হাট থেকে মসজিদের অনুদানের নামে টাকা আদায় করেন।

গোপীনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, পূর্ণ গোপীনাথপুর তিন মাথায় সকালে একটি ছোট হাট বসে। তবে কিছু অসাদু ব্যক্তি হাটের নামে টাকা তোলে সেটি আমিও শুনেছি। কাল সকালে আমি নিজে ওই হাটে গিয়ে দেখবো।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস.এম হাবিবুল হাসান বলেন, পূর্ণ গোপীনাথপুর তিন মাথার মোড়ে সড়কের উপরে কোন হাট বসার অনুমতি নেই। সেখানে কেউ খাঁজনার টাকা আদায় করলে সেটি বে-আইনিভাবে তুলছেন। আমি অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর  আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যায়যায়কাল এর সর্বশেষ সংবাদ