
মেহেদী হাসান, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি: নেত্রকোনার বারহাট্টায় মল্লিকপুর গ্রামের বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী এক তরুণী ছেলে সন্তানের মা হয়েছেন। তবে ছেলেটির বাবা হয়নি কেউ। বুধবার (২৩ নভেম্বর) রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহমুদা খাতুন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, নবজাতক ও তার মা দুজনই সুস্থ্য আছেন।
জানা গেছে, হুজুরের লেবাসধারী এক ব্যক্তির ধর্ষণে অন্তঃস্বত্তা হয় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ওই তরুণী। প্রসবের সময় ঘনিয়ে এলে এলাকার কিছু লোক মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) বিকেলে তাকে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে ওই রাতেই তিনি সন্তান প্রসাব করেন।
ধর্ষণের ঘটনায় সাত মাসের অন্তঃস্বত্তা হয়ে পড়লে গত ১১ সেপ্টেম্বর নুর আহম্মদের বিরুদ্ধে মামলা করেন ওই তরুণী। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন।
বিভিন্ন সূত্রের অভিযোগ, নুর আহাম্মদ নামের এক হুজুরের ধর্ষণের শিকার হন ওই প্রতিবন্ধী তরুণী। নুর আহম্মদ (৫৭) বারহাট্টা উপজেলার সিংধা ইউনিয়নের মল্লিকপুর গ্রামের মৃত মগল মিয়ার ছেলে।
ভুক্তভোগীর মা জানান, আমার ৭ সন্তানের ৫ জনই প্রতিবন্ধী। স্বামী মারা যাওয়ার পর এদের নিয়ে অনেক কষ্টে আছি। নুর আহম্মদ কাজ করানোর কথা বলে মেয়েটাকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। সে আমাদের ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে। তাছাড়া, সে আমার বিরুদ্ধে আদালতে মিথ্যা মামলা দিয়েছে।
বারহাট্টা উপজেলার সিংধা ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য লালন বখত মজুমদার বলেন, নুর আহম্মদ বিভিন্ন জায়গায় মসজিদের ইমামতি করেন। ইমামতি করলেও তার নারী কেলেঙ্কারির অনেক ঘটনা আছে। বর্তমানে বিদেশে লোক পাঠান তিনি। এলাকার কিছু লোককে টাকা পয়সা দিয়ে তার পক্ষে নিয়েছে। তারা ওই প্রতিবন্ধী তরুণীর পরিবারকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এ ঘটনায় তার কঠোর শাস্তির দাবি জানাই।
বারহাট্টা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফুল হক বলেন, এখন আদালতের অনুমতি নিয়ে আসামি, ভিকটিম ও নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। অভিযুক্ত নুর আহম্মদের বিরুদ্ধে মামলা চলমান আছে।











