বৃহস্পতিবার, ৫ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ,১৯শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসনে রতন কুমার ভৌমিক এর ব্যাতিক্রমি উদ্যোগ

আবুল হাশেম,রাজশাহী প্রতিনিধিঃ পানির অপর নাম জীবন। পানি ছাড়া নিত্য দিনের কাজকর্ম ও কৃষি ক্ষেতে চাষবাস একেবারে অসম্ভব। অনাবৃষ্টি আর অতিরিক্ত তাপদাহে ভূ-গর্ভস্থ পানির লেয়ার নিচে নেমে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। খরায় গাছের আমসহ ঝরে পড়ছে গ্রীষ্মকালীন ফল। শুধু ফল,ফসল আর গবাদিপশুতে নয়, জনজীবনেও বিরুপ প্রভাব পড়েছে। গত নভেম্বর মাস থেকে এখন পর্যন্ত কোন রকম বৃষ্টিপাত না হওয়ায় রাজশাহীর বাঘা উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমেই নিচে নামতে শুরু করেছে। ফলে বেশিরভাগ অগভীর নলকূপ থেকে পানি উঠছে না। যার কারনে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট। তাই বাধ্য হয়ে অন্যের বাড়িথেকে গভীর নলকূপের পানি সংগ্রহ করে কোনমতে প্রয়োজন মেটাতে হচ্ছে। পানির এই তীব্র সংকট নিরসনে ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিং এর বাউসা ইউনিয়ন শাখার পরিচালক রতন কুমার ভৌমিক এক ব্যাতিক্রমি উদ্যোগ গ্রহন করেছেন। তিনি তার ব্যাক্তিগত অর্থায়নে ভ্র্যাম্যমান ভ্যান গাড়িতে বিনামূল্যে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করছেন বাড়ি-বাড়ি। বর্তমানে বেড়ের বাড়ী, হরিপুর, বেনুপুর, বাউসা হাটপাড়া ও বাউসা বাজার এলাকায় এ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল-বিকাল নিয়ম করে পানি সরবরাহ করায় জনমহলে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। রতন কুমার ভৌমিক সামাজিক এই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রশংশিতও হয়েছেন সব মহলে।

বাউসা বাজারের চা দোকানী রাজা মিয়া বলেন, বাজার এবং বাজারের আশপাশের কোন টিউবওয়েলে পানি উঠছেনা। পানির খুবই সংকটময় মুহুর্তে একটু বিশুদ্ধ পানির জন্য চলছে হাহাকার। রতন কুমার ভৌমিক এর এমন মহতি উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।

বাউসা বাজারের মেকার আজের উদ্দিন বলেন, এমন দূর্বিসহ সময়ে বাজারের সকল কার্যক্রম চলছে রতন কুমার ভৌমিক এর সরবরাহকৃত পানিতে। এতে করে বাজারের সব দোকানদার খুব উপকৃত হচ্ছে।

প্রতিদিন পানি সরবরাহের সময় হলেই বেজে ওঠছে রতন কুমার ভৌমিক এর সেল ফোন। সবার দাবি দ্রুত চায় বিশুদ্ধ সুপেয় পানি। এ বিষয়ে রতন কুমার ভৌমিক বলেন, এই বাজারে আমি ব্যাংক এসিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা পরিচালনা করি। বর্তমানের প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্ট অনাবৃষ্টি আর তীব্র খরায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। এরই মাঝে উপজেলার প্রায় সব এলাকার টিউবওয়েল গুলোতে আর পানি উঠছে না। আবার মানুষ চাইলেও সহজে পানি সংগ্রহ করতেও পারছে না। তাই আমি আমার সাধ্য অনুযায়ী নিজ খরচে জনস্বার্থে বাউসা এলাকায় পানি সর্বরাহের সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়মিত পানি সরবরাহ করছি। সব এলাকা থেকে যদি হৃদয়বান বৃত্তবানরা এগিয়ে আসে তবে পানির এই তীব্র সংকট নিরসন সম্ভব হবে।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যায়যায়কাল এর সর্বশেষ সংবাদ