শুক্রবার, ১৩ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ,২৭শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

রাজশাহীতে ডাক্তারদের কর্মসূচিতে শিবিরের স্লোগান

শাহ্ সোহানুর রহমান, রাজশাহী : রাজশাহীতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের দলীয় স্লোগান দিয়ে বেতন বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেনে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। রোববার দুপুরে নগরীর আমচত্বর এলাকায় ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে তারা এ দাবি জানিয়ে স্লোগান দেন। এ সময় চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা পড়েন দুর্ভোগে।

ইন্টার্ন চিকিৎসকরা বলেন, আমরা মাসে ১৫ হাজার টাকা বেতন পাই। সরকারি হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা মাসে পান ২০ হাজার করে। সেজন্য আমরা কর্মবিরতি শুরু করেছি। এ সময় ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে দাঁড়ান তারা।

‘দাবি মোদের একটাই, ২০ হাজার বেতন চাই’, ‘২০ হাজার বেতন হলে ফিরে যাব ইনডোরে’ স্লোগান দেন। এছাড়া ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘প্রশাসনের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ ইত্যাদিসহ ছাত্রশিবিরের দলীয় স্লোগান দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

এ সময় সাংবাদিকদের ক্যামেরা দেখে তাদের একজন এসব স্লোগান বন্ধ করতে বলেন। আন্দোলনের সময় সেখানে আসেন হাসপাতালের মার্কেটিং অফিসার রেজাউল ইসলাম উজ্জ্বল। তিনি আন্দোলন কর্মসূচির ভিডিও করছিলেন। রেজাউল উজ্জ্বল জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া আন্দোলনরতদের মধ্যে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মী ছিলেন বলে ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতা নিশ্চিত করেছেন।

এদিন তাদের কর্মবিরতির কারণে সেবা বন্ধ থাকে। অনেক রোগী দুর্ভোগে পড়েন। তবে এসব বিষয়ে গণমাধ্যমে কোনো কথা বলতে চাননি ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক প্রফেসর ডা. সানাউল হক মিঞা। গণমাধ্যমের ক্যামেরা দেখে তড়িঘড়ি করে মাইক্রোবাসে করে তিনি হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

অভিযোগ রয়েছে, ডিউটির সময় ফেসবুক চালান ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। রোগী বসিয়ে রেখে খোশগল্প ও আড্ডায় মেতে থাকেন। রোগীর স্বজনরা দ্বিতীয়বার সেবার জন্য গেলে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।

২০১৮ সালের জানুয়ারিতে অবহেলায় এক নবজাতকের মৃত্যু হয়। ওই সময় হাসপাতালে ভাঙচুর চালান শিশুর বিক্ষুব্ধ স্বজনরা। এছাড়া গত এপ্রিল মাসে হাসপাতালটিতে সন্তান প্রসবের পর রহস্যজনকভাবে দুই প্রসূতি মারা যান।

স্বজনদের অভিযোগ, বিভিন্ন কোম্পানির উপহার পেয়ে ওষুধ লেখেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের জরুরী বিভাগ ও অপারেশন থিয়েটার বিভাগের কর্মরত কয়েকজন স্টাফ বলেন, ‘ইন্টার্ন চিকিৎসকরা আমাদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করে। ডাক্তার বলে আমাদেরকে তারা মানুষ মনে করে না। ওদের বেতন বাড়িয়ে কী হবে?’

ওই স্টাফরা বলেন, ওরা (ইন্টার্ন চিকিৎসক) ১৫ হাজার টাকা করে পেলেও ইন্টার্ন নার্সদের কোনো সম্মানী দেয়া হয় না। দিতে হলে এদেরও ইন্টার্ন ভাতা চালু করতে হবে। ডাক্তাররা তো টাকা পাচ্ছেই, আবার তারা টাকা কী করবে? নার্সদের কী কেনো হক নাই? তারা শুধু শুধু খাটবে? ইন্টার্ন নার্সরাও তো নাইট ডিউটি করেন। তাদের তারা বঞ্চিত কেন?

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

, , বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যায়যায়কাল এর সর্বশেষ সংবাদ