সোমবার, ২১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ,৪ঠা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

এর সর্বশেষ সংবাদ

রুমায় বৌদ্ধ বিহারে ধর্ম দেশনা ঘর নির্মাণে অনিয়ম

আরাফাত খাঁন, বান্দরবান: বান্দরবান রুমা উপজেলায় এডিবির অর্থায়নে ১নং পাইন্দু ইউনিয়নের চান্দা পাড়া বৌদ্ধ বিহারের চেরাং ঘর নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা পরিষদের সিএ উসাইমং মার্মা বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন পাইন্দু ইউনিয়নের চেয়ারম্যান।

লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, পাইন্দু ইউনিয়নের চান্দা পাড়া বৌদ্ধ বিহারের চেরাং ঘর নির্মাণের কাজটি ঠিকাদার উক্যমং মার্মার লাইসেন্সে উপজেলা পরিষদের সিএ উসাইমং মার্মা নিজে করেন। বিহারের ধর্ম দেশনা (চেরাং ঘর) ঘর নির্মাণের জন্য ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে এডিপি প্রকল্প হতে ১০ লক্ষ টাকা প্রকল্প ব্যয় নির্ধারণ মাধ্যমে টেন্ডারের কাজটির দায়িত্ব নেন। পাড়াবাসীর কাছ থেকে আরও ৩ লক্ষ টাকা অনুদান তুলে মোট ১৩ লক্ষ টাকা নয়ছয় করে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করে কাজটি অসমাপ্ত রেখে যান উসাইমং মার্মা।

এ বিষয়ে চান্দা পাড়া বৌদ্ধ বিহারের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক চেরাংঘর নির্মাণে অনিয়ম, দুর্নীতির প্রতিকার চেয়ে এবং নির্মাণ কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় ধর্ম দেশনা (চেরাং ঘর) ঘরে নির্ধারিত ধর্মীয় কাজ সুসম্পন্ন করতে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। অসমাপ্ত কাজ সমাপ্তকরণের জন্য ১নং পাইন্দু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রুমার স্থায়ী এক বাসিন্দা জানান, ২০১২ সালে উপজেলা পরিষদে যোগদানের পর থেকে গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগের কর্মী পরিচয়ে নানান অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন।

উসাইমং মার্মার রুমা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান উহ্লাচিং মারমা সিএ এর দায়িত্বে থাকায় বিভিন্ন ইউপির চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের নামে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে বলে জানান। আওয়ামীলীগের পতনের পরও বহাল তবিয়ত এই উপজেলার কর্মচারী। তদন্ত করলে অনেক দুর্নীতি ও অনিয়ম বেরিয়ে আসবে।

এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের সিএ উসাইমং মার্মার প্রতিবেদকদের সাথে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করে বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে বাধ্য না। আমার ঊর্ধ্বতন ও কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেন। অনেক সাংবাদিকের সাথে সুসম্পর্ক আছে।আপনাদের লেখালেখিতে আমার কিছুই হবে না। আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সব সামাল দিবে।

পাইন্দু ইউপি চেয়ারম্যান উহ্লামং মারমা বলেন, সরকারি বরাদ্দকৃত ১০ লক্ষ টাকায় কাজটি সম্পূর্ণ না হওয়ার অজুহাতে উপজেলা পরিষদের সিএ উসাইমং মার্মার পাড়াবাসীর নিকট হইতে আরো ৩ লক্ষ টাকা নিয়ে নির্মাণ কাজটি অসম্পূর্ণ রেখেছেন। বর্তমানে ফ্লোরের কাজ অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। ধর্ম দেশনা (চেরাং ঘর) ঘরের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় ধর্মীয় কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। তাই আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে লিখিত নিকটে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারকে তদন্ত করে রিপোর্ট দিতে বলেছি। বর্তমান কাজের সাথে এস্টিমেট ঠিক আছে কি না। সরজমিনে তদন্ত করে রিপোর্ট দেওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *