
যায়যায়কাল ডেস্ক: ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চরম সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। ১৬ দিন ধরে চলমান এই বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে বলে দাবি করেছে একটি অধিকার সংস্থা।
রোববার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলমান এই বিক্ষোভ ২০২২ সালের পর ইরানের কর্তৃত্ববাদী শাসকদের প্রতি দেশটির জনগণের ছুঁড়ে দেওয়া সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
ইরানে চলমান বিক্ষোভ ১৬তম দিনে পা দিয়েছে। ২৮ ডিসেম্বর দোকানমালিকরা বিক্ষোভ শুরু করে। পরে সেই বিক্ষোভে শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণ যোগ দিলে তা দূর্বার গণআন্দোলনে রূপ নেয়।
ইরানের ভেতরে ও বাইরে অবস্থানরত অধিকারকর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ-এর দাবি, ৪৯০ বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর ৪৮ সদস্য নিহত হয়েছেন।
পাশাপাশি, এখন পর্যন্ত বিক্ষোভের জেরে দশ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন।
ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি। রয়টার্স অধিকারসংস্থার দাবি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করতে পারেনি।
পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হলে ইরানে মার্কিন সামরিক বাহিনী পাঠানোর হুমকি দিয়েছেন তিনি।
এই হুমকির জবাবে তেহরান মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার হুমকি দিয়েছে।
রোববার ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, কর্মকর্তারা আগামী মঙ্গলবার ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান, গোপন সাইবার অস্ত্র ব্যবহার, অর্থনৈতিক বিধিনিষেধের পরিধি বাড়ানো ও অনলাইনে সরকারবিরোধীদের সহায়তা দেওয়ার মতো নানা বিকল্প নিয়ে ব্রিফিং দেবেন।
ইতোমধ্যে ওয়াশিংটনকে হুমকি দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ভুল হিসাবে না যাওয়ার’ আহ্বান জানান।
ইরানের অভিজাত বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর সাবেক কমান্ডার কালিবাফ আরও বলেন, ‘একটি বিষয়ে একমত হওয়া উচিৎ। ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলা হলে অধিকৃত ভূখণ্ড (ইসরায়েল) ও সকল মার্কিন ঘাঁটি ও জাহাজ আমাদের কাছে বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।’
শনিবার ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান স্বাধীনতার দ্বারপ্রান্তে। সম্ভবত এতোটা কাছে এর আগে আর কখনোই তারা পৌঁছাতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করার জন্য প্রস্তুত!!!’
বিক্ষোভের শুরু থেকেই ইসরায়েল ‘ইরানের স্বাধীনতাকামী’ জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার জানায়। দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ জানায়, তারা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ‘মাঠে’ আছে।
গতকাল রোববার দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আশাবাদ প্রকাশ করে জানান, খুব শিগগির ইরানের ‘স্বৈরাচারী’ শাসকের পতন হবে এবং আবারও ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে অংশীদারিত্ব তৈরি হবে।
এতে দুই দেশের মঙ্গল হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।











