শনিবার, ২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ,১৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

এর সর্বশেষ সংবাদ

কুমিল্লা নামে বিভাগ হবে: প্রধানমন্ত্রী

কুমিল্লা প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘কুমিল্লা’ নামে বিভাগ হবে। কুমিল্লা নামে বিভাগ হওয়াটা যদি এই অঞ্চলের জনগণের দাবি হয়ে থাকে, ইনশাআল্লাহ সেটির বাস্তবায়ন হবে। বিএনপি সরকার জনগণের সব দাবি পর্যায়ক্রমে পূরণ করবে।

একই সঙ্গে কুমিল্লায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের বিষয়ে শিগগিরই শিক্ষামন্ত্রীর সাথে আলাপ করে ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

শনিবার দুপুর দেড়টায় কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে এক পথসভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সভায় কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ কুমিল্লাবাসীর পক্ষে ‘কুমিল্লা’ নামে বিভাগ এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি তুলে ধরেন। কর্মীরাও তুমুল করতালি দিয়ে কৃষিমন্ত্রীকে সমর্থন জানায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি এখানে ২০০১ সালের নির্বাচনে বরুড়াবাসীর সামনে দাঁড়িয়ে বলেছিলাম যে, বরুড়া আর আমার জেলা বগুড়া দুটো উচ্চারণ অনেক কাছাকাছি। আমি যেরকম আমার এলাকার উন্নয়ন দেখবো, ইনশাআল্লাহ আমি বরুড়ার বিষয়েও সহযোগিতা করবো। আমরা সেই সময় কথা রেখেছিলাম, এখানে সেই সময় প্রচুর রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, ব্রিজ, কালভার্ট তৈরি হয়েছিল এলাকার মানুষের যোগাযোগের জন্য, সুবিধার জন্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম— সারাদেশে কৃষকদের যাদের কৃষি ঋণ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আছে, সুদসহ সেই ঋণ আমরা মওকুফ করব। নির্বাচিত হওয়ার পরে সরকার গঠন করার পরে প্রথম ১০ দিনের মধ্যে আমরা সেই কথা রেখেছি এবং সেটি আমরা মওকুফ করে দিয়েছি। এর ফলে বাংলাদেশের প্রায় ১২ লাখ কৃষক এর সুবিধাটি পেয়েছে। ১২ লাখ কৃষকের সুদ এবং ঋণ দুটোই মওকুফ হয়ে গেছে।

বিএনপি যে ওয়াদা দেয়, সরকারে এলে সেই ওয়াদা পূরণ করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জনগণ বিএনপি-কে ক্ষমতায় আনার মধ্য দিয়ে নিজেদের রাষ্ট্রের মালিক হিসেবে নির্বাচিত করেছে। তাই জনগণই বিএনপি সরকারের মূল শক্তি। তাই বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এরইমধ্যে খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং ইমাম-পুরোহিতদের সম্মানি দেওয়া শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে বাকি সব প্রতিশ্রুতিও ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করবে। তবে এ জন্য সকলকে ধৈর্য ধরতে হবে।

এখন সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গঠন করার সময় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবাই যাতে স্বাবলম্বী হতে পারে, সেজন্য প্রত্যেকে নিজ নিজ জায়গা থেকে তা নিশ্চিত করতে হবে। জনগণই দেশের মালিক; মালিক যখন দায়িত্ব নেয়, তখনই দেশ এগিয়ে যায়।’

বিগত সরকারের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, বিগত ১৭ বছর যে স্বৈরাচার ক্ষমতায় ছিল, তারা দেশের মানুষের ওপর অত্যাচার করেছে, নির্যাতন করেছে। গুম, খুন, গুলি করে মানুষ হত্যা করেছে। একই সাথে এই দেশের মানুষের অর্থসম্পদ তারা বিদেশে লুটপাট করে পাচার করেছে। ফলে এই মুহূর্তে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা চাপের মুখে আছে। সেজন্যই আমাদেরকে কষ্ট করতে হবে, পরিশ্রম করতে হবে এবং ধৈর্য ধরতে হবে। আমরা ইনশাল্লাহ জনগণের যে সকল দাবি, জনগণের যে সকল চাওয়া— পর্যায়ক্রমিকভাবে বাস্তবায়ন করব এক এক করে।

জনগণের শক্তি হচ্ছে আসল শক্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণই হচ্ছে বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। সেজন্যই আপনাদের সমর্থন যদি বিএনপির পাশে থাকে, তাহলে ইনশাআল্লাহ আমরা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব। তাই আসুন শপথ করি— ‘করব কাজ, গড়বো দেশ। সবার আগে বাংলাদেশ।’

নির্বাচনের পর প্রথমবারের মতো চাঁদপুর যাওয়ার পথে কুমিল্লার বরুড়ায় লাখো মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দীর্ঘ ২৫ বছর পর প্রিয় নেতাকে কাছে পেয়ে দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও রাস্তার দু’পাশে ভিড় করেন সাধারণ মানুষ।

পথ সভায় সভাপতিত্ব করেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া, কুমিল্লা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও কুমিল্লা বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু।

আরো বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সভাপতি উদবাতুল বারী আবু, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সম্পাদক কামরুল হুদা, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আমিরুজ্জামান আমির, সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম প্রমুখ।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *