
যায়যায়কাল ডেস্ক: কুয়েতে ইরানের ড্রোন হামলায় বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা গুরুতর আহত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে আজ বুধবার মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএস নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের শুরুর দিকে কুয়েতে ৬ জন মার্কিন সেনার মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। তবে আগে যেমন জানানো হয়েছিল ওই হামলার ভয়াবহতা তার চেয়েও অনেক বেশি।
হামলায় বেশ কয়েকজন সেনা সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকের মস্তিষ্কে আঘাত, স্প্লিন্টারের আঘাতে জখম ও দগ্ধ হয়েছেন বলে জানিয়েছে সিবিএস।
এছাড়া, অন্তত একজনের অঙ্গহানি হয়েছে বলেও জানা গেছে।
সূত্রগুলো জানায়, গত ১ মার্চ কুয়েত সিটির বাইরে শুয়াইবা বন্দরে একটি ট্যাকটিক্যাল অপারেশন সেন্টারে হামলা চালায় ইরান। ওই হামলায় বিভীষিকাময় পরিস্থিতি তৈরি হয়।
হামলার পর ভবনটি ধোঁয়ায় ভরে যায়। এতে ভেতরে আটকে পড়া সেনাদের উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ে।
মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত ওই হামলায় আহত ৩০ জনের বেশি সেনা সদস্য বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
এর মধ্যে, একজন সান আন্তোনিওর ব্রুক আর্মি মেডিকেল সেন্টারে, ১২ জন ওয়াশিংটন ডিসির ওয়াল্টার রিড মেডিকেল সেন্টারে ও প্রায় ২৫ জন জার্মানির ল্যান্ডস্টুল রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি আছেন।
আহতদের মধ্যে প্রায় ২০ জনকে মঙ্গলবার একটি সি-১৭ সামরিক উড়োজাহাজে জার্মানির ল্যান্ডস্টুলে নেওয়া হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আহত সেনাদের আঘাতকে সামরিক ভাষায় ‘জরুরি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্রেন ইনজুরি, স্মৃতিশক্তি হারানো ও মস্তিষ্কে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি।
আহতদের সহায়তায় ১০০ জনের বেশি অতিরিক্ত স্বাস্থ্যকর্মীকে ল্যান্ডস্টুলে পাঠানো হয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগন শুরুতে কুয়েত হামলায় আহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানায়নি। ১ মার্চ তারা জানিয়েছিল, পাঁচজন গুরুতর আহত ও আরও কয়েকজন সামান্য স্প্লিন্টারের আঘাতের শিকার হয়েছেন।
সূত্র জানায়, হামলার পর দুজন সেনা নিখোঁজ ছিলেন। তাদের পরে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়।
গত সপ্তাহে পেন্টাগনে এক বক্তব্যে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ওই হামলা সম্পর্কে বলেন, ‘সেখানে আমাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আছে। বেশিরভাগ হামলাই আমরা প্রতিহত করেছি। কিন্তু মাঝে মাঝে দুর্ভাগ্যবশত দুইয়েকটি ড্রোন লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে প্রতিরক্ষা দেয়াল ভেদ করে ভেতরে ঢুকে পড়ে। একটি আমাদের ট্যাকটিক্যাল অপারেশন সেন্টারে আঘাত হানে। মনে রাখতে হবে, এগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী অস্ত্র।’
মঙ্গলবার যুদ্ধের ১১তম দিনে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল জানান, যুদ্ধে এ পর্যন্ত প্রায় ১৪০ জন মার্কিন সেনা সদস্য আহত হয়েছেন। তবে তারা কোথায় বা কখন আহত হয়েছেন তা তিনি নির্দিষ্ট করেননি।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আহতদের বড় অংশই সামান্য আঘাত পেয়েছেন এবং ১০৮ জন ইতিমধ্যে কাজে ফিরেছেন। ৮ সেনা সদস্য এখনো গুরুতর আহত অবস্থায় সর্বোচ্চ পর্যায়ের চিকিৎসা নিচ্ছেন।’
তবে সেনা সদস্যদের আঘাতের ধরন বা স্থানের বিষয়ে পেন্টাগন মুখপাত্ররা তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি।











