
জিয়াউল হক (খোকন), নিজেস্ব প্রতিবেদক: পৌষের মাঝামাঝি এসে পুরোদমে জেঁকে বসেছে শীত। তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় নাকাল জনজীবন।
ঘন কুয়াশা ও কনকনে ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত, ঠান্ডা জনিত নানা রোগ ছড়িয়ে পড়ায় হাসপাতাল ও ক্লিনিকে জ্বর-সর্দি, কাশি, অ্যাজমা রোগীর ভিড় বাড়ছে। শিশু ও বয়স্করা বেশি অসুবিধার মধ্যে পড়েছে। সাধারণ খেটে-খাওয়া মানুষ বেকায়দায় পড়েছেন। জেলার উপর দিয়ে বইয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগ।
কুষ্টিয়ায় জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। তিনদিন ধরে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ ডিগ্রির নিচে। শুক্রবার সকালে তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
কুষ্টিয়ায় ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে ঠান্ডার প্রকোপ বেড়েই চলছে । ঘন কুয়াশায় দিনের বেলায় বাস ও গাড়ি হেড লাইড জ্বালিয়ে চলাচল করছে। ঠান্ডাজনিত রোগে বেশিরভাগ আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। শয্যা সংকটে অনেকের ঠাঁই হয়েছে হাসপাতালের বারান্দা ও মেঝেতে। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও স্বজনরা।
কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়া এলাকার ভ্যানচালক আব্বাস বলেন, গত এক চারদিন যে শীত শুরু হয়েছে তাতে বেলা ১১টার পর মানুষ বাড়ি থেকে বের হয়ে সন্ধ্যা হলে বাসায় ফিরে। আগে দিনে চার থেকে ৫০০ টাকা মত ভাঁড়া হত। শীত বেশি হওয়ায় এখন দিনে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা আয় হয়। কৃৃষক রাজ্জাক মোল্লা বলেন, ঘন কুয়াশা আর ঠান্ডা বাতাসের কারণে খেতে কাজ করাই যাচ্ছে না। অনেক বেলায় কাজে গেলেও বিকেল হতে না হতেই বাসায় ফিরতে হচ্ছে। অটোচালক চুন্নু বলেন, শীতের কারণে শহরে লোকজনের চলাচল অনেক কমে গেছে।
শীত বাড়ায় নিউমোনিয়া, জ্বরসহ ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বেশি। হাসপাতালের ধারণক্ষমতার চেয়ে ৮ গুণ বেশি রোগী থাকায় হিমশিম খাচ্ছেন নার্স ও চিকিৎসকরা।
জানা গেছে, হঠাৎ করে জ্বর, সর্দিকাশি হওয়ার পর বাড়িতে কোনো সমাধান না হওয়ায় হাসপাতালে আসতে হয়েছে অনেককে। এ ছাড়া আউটডোরে প্রতিদিন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে রোগীরা বাড়ি ফিরছেন।
কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে গড়ে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছে।











