শনিবার, ৭ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ,২১শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

এর সর্বশেষ সংবাদ

কুষ্টিয়ায় মোড়ে মোড়ে শীতের পিঠা

জিয়াউল হক (খোকন), নিজেস্ব প্রতিবেদক: কুষ্টিয়া শহরের মোড়ে মোড়ে বসে পিঠার দোকান। এই পিঠার প্রতি আগ্রহ থাকে সাধারণ মানুষের। বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ মৌসুমি এই পিঠার স্বাদ নেন ফুটপাতের এই দোকান থেকে। শীতে আতপ চাউলের ভাঁপা পিঠার স্বাদই আলাদা।

পিঠা শুধু লোকজ খাবার নয়, এটা বাংলা ও বাঙালির লোকজঐতিহ্য। এর সঙ্গে মিশে আছে আবহমান বাংলার সংস্কৃতি। আধুনিকতার ছোঁয়ায় পারিবারিক ও সমাজজীবন থেকে পিঠা তৈরির আয়োজন কমে যাচ্ছে। তবে এ ঐতিহ্য ধরে রেখেছে একশ্রেণির মৌসুমী নারী-পুরুষ ব্যবসায়ী। সকালের কুয়াশা কিংবা সন্ধ্যার হিমেল বাতাসে ভাঁপা পিঠার সুগন্ধি ধোঁয়ায় মন আনচান করে ওঠে। সরষে বা ধনেপাতা বাটা অথবা শুঁটকি ভর্তা মাখিয়ে চিতই পিঠা মুখে দিলে ঝালে কান গরম হয়ে শীত পালায়।

কুষ্টিযা শহরের কলেজ মোড়, হাসপাতাল মোড়, ছয় রাস্তার মোড়, মজমপুর গেট, মোল্লাতেঘরিয়া মোড়, বড়বাজার রেল গেটসহ বিভিন্ন স্থানে হরেক রকমের পিঠার দোকান বসেছে। শীত শুরু হতেই পিঠার দোকান বসতে শুরু করে। চিতই, কুলি, ভাঁপা, পাটিসাপটাসহ বিভিন্ন পিঠা বিক্রি করছেন তারা। তবে ভাঁপা আর চিতই বিক্রি বেশি। শুধু শহরে নয়, শহরের বাইরে উপজেলা এবং গ্রামের বাজারে ভাঁপা পিঠার দোকান বসেছে।

পিঠা কিনতে আসা শহরের মিলপাড়া এলাকার বাসিন্দা ঔষধ ব্যবসায়ি মাসুম জানান, পরিবার পরিজন নিয়ে শহরে থাকায় বাসায় পিঠা তৈরি হয়ে ওঠে না। তাই কয়েক ধরনের পিঠা কিনে বাসায় নিয়ে যাচ্ছেন।

বড় বাজারে পিঠা খেতে আসা মানিক হোসেন জানান, শীতের সন্ধ্যায় প্রায়ই তারা বন্ধুরা মিলে পিঠা খেতে বের হন। শীত যত বাড়ছে; ভাঁপা পিঠার স্বাদ তত বাড়ছে।

মানিকের বন্ধু ফুয়াদ ও সুমন জানান, ভাঁপা পিঠা, কলাই এর রুটি খেতে আলাদা মজা। এর জন্যই পিঠা খেতে আসেন।

পিঠা বিক্রেতা আতর আলী জানান, ৫ টাকা ও ১০ টাকা পিস হিসেবে পিঠা বিক্রি করেন। শীত আসলেই রাস্তার পাশে ভ্রাম্যমাণ পিঠার দোকান দেন তিনি। আমলা আশ্রয়ন প্রকল্পের মিনারুল, তার স্ত্রী রাসিদা এবং বাবা আরমান আলী আমলা বাজারে ভ্রাম্যমাণ ভাঁপা পিঠা এবং কলাই এর রুটির দোকান দিয়েছেন। রাসিদা পিঠা তৈরি করেন; মিনারুল ও মিনারুলের বাবা তা বিক্রি করেন।

মিনারুল জানান, শীত পড়তে শুরু করলে প্রতি বছর তারা পিঠা বিক্রি করেন। অনেক দূর থেকে লোকজন পিঠা কিনতে আসে। বিকেলে থেকে রাত ৯/১০ পর্যন্ত তারা পিঠা বিক্রি করেন।

তিনি জানান, দিনে ২০০টির মতো কলাই এর রুটি বিক্রি হয়। সেই সঙ্গে ১০০-১৫০টির মতো ভাঁপা পিঠা। কালাই এর রুটির সঙ্গে বেগুনভর্তা বা কাঁচা মরিচ বাটা। এক পিস রুটির দাম ২০ টাকা। আর গুড় ও আতপ চালের তৈরি ভাঁপা পিঠা ৫ টাকা করে।

মিনারুল জানান, শীত মৌসুমে চার মাস পিঠা বিক্রি হয়। দৈনিক ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা বিক্রি করেন। খরচ বাদ দিয়ে দৈনিক এক থেকে দেড় হাজার টাকা লাভ হয়॥

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যায়যায়কাল এর সর্বশেষ সংবাদ