
মাইদুল ইসলাম, রংপুর ব্যুরো: শীতে নাব্যতা সংকট আর বর্ষায় ভরা যৌবনে গাইবান্ধার নদনদীগুলো। উজানের ঢল আর ভরা বর্ষায় জেলার বিভিন্ন অঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়। বন্যার পানি সরে যাওয়ার সাথে সাথেই দেখা যায় তীব্র নদী ভাঙ্গন।
নদী ভাঙ্গন ঠেকাতে বিভিন্ন উপায়ে কাজ করে যাচ্ছে বাপাউবো গাইবান্ধা। বর্তমানে বেশ কয়েকটি প্যাকেজের আওতায় জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে সিসি ব্লক দিয়ে ভাঙ্গন ঠেকাতে কাজ করছে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড।
সম্প্রতি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের লালচামার,শ্রীপুর,সদরের কামারজানি, ফুলছড়ির কাতলামারি, সাঘাটার গোবিন্দি, হলদিয়া এলাকায় সিসি ব্লক দিয়ে নদীর ডান তীর রক্ষায় কাজ চলমান রয়েছে। কাজ সম্পন্ন হলে জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো থেকে মেইন ল্যান্ডে ভাঙ্গনের কবল থেকে রক্ষা পাবে আশাবাদী স্থানীয়রা।
ফুলছড়ি উপজেলার কাতলামারী গ্রামের সিসি ব্লকের একটি প্যাকেজের কাজ করছে বগুড়ার একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান”শাহরিয়ার কনস্ট্রাকশন”। কথা হয় ঠিকাদারের প্রতিনিধি আমিনুল ইসলামের সাথে। তিনি জানান, ফুলছড়ি উপজেলার কাতলামারী এলাকা ব্লক তৈরির কাজ সঠিক তদারকির মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। মানসম্মত পাথর, বালি,সিমেন্টের মিশ্রণে সঠিক নিয়মে শ্রমিকরা এক একটি ব্লক তৈরি করছেন। যেখানে আমি নিজে, ওয়ার্ক এসিস্ট্যান্ট উপস্থিত থেকে কাজ করাই। আমার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান উন্নয়নে বিশ্বাসী। আমি এই প্রতিষ্ঠানের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি।
স্থানীয় আনোয়ারা বেগম জানান, “বাবা হামরা ১০/১২ ভাঙ্গা দিয়ে এই পাড়ে আসছি। ম্যালা ভয় ছিলো আবার ভাঙ্গা দেয়া লাগবে কিন্তু না। এখন নদীর ভালো কাজ হচ্ছে। আশা করি আর ভাঙ্গবে না”।
গত বছরের ডিসেম্বর মাসে সুন্দরগঞ্জের ফুল মিয়ার বাজারে তীব্র নদী ভাঙ্গন দেখা দেয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রচেষ্টায় কিছুটা ভাঙ্গন ঠেকাতে সম্ভব হয়। পরে ২০২৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড গাইবান্ধা গণশুনানির আয়োজন করে। তবে সকলের একটাই দাবি জানানো হয় জেলার অন্যান্য স্থানের মতো এখানেও সিসি ব্লকের মাধ্যমে যেন নদী তীররক্ষার কাজ করানো হয়।
সচেতন মহল বলছেন, সিসি ব্লক দিয়ে নদী তীর রক্ষার কাজের মান সবসময় প্রশংসনীয়। জেলার গুরুত্বপূর্ণ যে স্থানগুলোতে সিসি ব্লকের মাধ্যমে স্থায়ী কাজ করাতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সকল কর্মকর্তার সুদৃষ্টি কামনা করছি।











