
মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, গাজীপুর: গাজীপুরে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। টঙ্গীর ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের ওষুধ কারখানা থেকে কালিয়াকৈরের ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস—এরপর চেরাগ আলী এলাকার প্রেসক্লাব মার্কেটে আগুন। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, এগুলো কি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি কোনো ঘটনার পেছনে রয়েছে পরিকল্পিত নাশকতা?
গত ১৪ অক্টোবর বুধবার সকালে টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকায় ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের প্রায় ২১টি ইউনিট কাজ করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর রাতের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের তিন সদস্য আহত হন বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়।
এরপর ১৭ অক্টোবর শনিবার প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, কালিয়াকৈরের সফিপুরে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের কারখানায়ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। একই সময়ে গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ডের খবর সামনে আসায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
অন্যদিকে, ১৬ অক্টোবর শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে প্রেসক্লাব মার্কেটে আগুন লাগে। আগুনে মার্কেটের নয়টি দোকান পুড়ে যায়। খবর পেয়ে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
একই জেলায় বারবার আগুন, তদন্তের দাবি
ওষুধ উৎপাদনকারী কারখানা থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক মার্কেট—বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রতিটি ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা।
কারখানাগুলোর বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম, দাহ্য পদার্থ সংরক্ষণ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পাশাপাশি কোনো ঘটনায় পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগের আলামত রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা জরুরি।
তবে ধারাবাহিকভাবে আগুন লাগার ঘটনা ঘটলেই সব ঘটনাকে একই পরিকল্পনার অংশ বলা যায় না। প্রতিটি ঘটনার আলাদা প্রেক্ষাপট ও আলামত বিশ্লেষণ করে তবেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব।
নাশকতা নাকি দুর্ঘটনা—উত্তর মিলবে তদন্তে
গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এখানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা শ্রমিক, ব্যবসায়ী, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। বিশেষ করে ওষুধ কারখানার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে আগুন লাগলে উৎপাদন, সম্পদ ও জননিরাপত্তার বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়।
তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি, ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল, ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস এবং চেরাগ আলী প্রেসক্লাব মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের কারণ পৃথকভাবে তদন্তের পাশাপাশি ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হোক। সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং ঘটনাস্থলের আলামত পরীক্ষা করে তদন্তের অগ্রগতি জনসমক্ষে প্রকাশ করা প্রয়োজন।
গাজীপুরবাসীর প্রশ্ন একটাই—একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের পেছনে আসল কারণ কী? দুর্ঘটনা হলে তার কারণ চিহ্নিত করে প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিতে হবে। আর নাশকতার প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে। জনমনে তৈরি হওয়া উদ্বেগ দূর করতে প্রয়োজন দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত।











