শুক্রবার, ৭ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ,২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

গাজীপুরের বোর্ডবাজারে মাদ্রাসায় শিশুদের যৌন নির্যাতন, গ্রেপ্তার শিক্ষক ও পরিচালক

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম , গাজীপুর: গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার বোর্ডবাজার কলমেশ্বর এলাকার দারুল হেদায়া কওমি মাদ্রাসার আবাসিক বিভাগে ছয় শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক ও মাদ্রাসার পরিচালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগটি ঘিরে শিশুদের নিরাপত্তা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এজাহারে একাধিকবার নির্যাতনের অভিযোগ

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসার আবাসিক বিভাগের সাত বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে গত ১০, ১১ ও ১২ অক্টোবর বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষক মো. অলিউল্লাহ ইসলামের (২৩) বিরুদ্ধে।

পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ার পর বিষয়টি স্বজনদের জানায়। পরে অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে পরিবার জানতে পারে, একই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আরও পাঁচ শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

ঘটনা গোপন করার চেষ্টার অভিযোগ

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর মাদ্রাসার পরিচালক মোহাম্মদ মিজান (৩৮) এবং স্থানীয় মো. আব্দুল কুদ্দুস শেখ (৪২) বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং পরিবারকে ভয়ভীতি দেখান। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পরিবারটি পরে গাছা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

মামলার এজাহারে অভিযুক্ত হিসেবে শিক্ষক মো. অলিউল্লাহ ইসলাম, মাদ্রাসার পরিচালক মোহাম্মদ মিজান এবং মো. আব্দুল কুদ্দুস শেখের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অভিযান চালিয়ে শিক্ষক ও মাদ্রাসার পরিচালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তৃতীয় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

শিশুদের সুরক্ষায় জবাবদিহি নিশ্চিতের দাবি

আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এমন অভিযোগ সামনে এলে নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুক্তভোগী শিশুদের নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রত্যাশা, প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটন করা এবং প্রমাণের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে শিশুদের পরিচয় ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

, বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যায়যায়কাল এর সর্বশেষ সংবাদ