
ভুরুঙ্গামারী(কুড়িগ্রাম): কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে এক শিক্ষকের বরখাস্তের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে শিক্ষার্থীরা।
বুধবার দুপুরে উপজেলার সোনাহাট দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ সমাবেশ করে একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জানা গেছে, কয়েকদিন আগে সোনাহাট দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের বিএসসি শিক্ষক মঞ্জুরুল ইসলামের কাছে প্রাইভেট পড়তে যায় ওই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক ছাত্রী। ওই ছাত্রীকে একা পেয়ে অনৈতিক উদ্দেশ্যে তার শরীর স্পর্শ ও কুপ্রস্তাব দেয় শিক্ষক মঞ্জুরুল ইসলাম। এই ঘটনা অন্যদের জানাতে নিষেধ করেন তিনি।
পরে ভুক্তভোগী ছাত্রী তার এক বান্ধবীকে ঘটনাটি জানায়। ধীরে ধীরে ঘটনাটি সকল শিক্ষার্থীদের মাঝে পৌঁছে গেলে বুধবার দুপুরে বিদ্যালয়ের সকল ছাত্রছাত্রীরা অভিযুক্ত শিক্ষকের পদত্যাগের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিলে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের। ওই শিক্ষককে বিদ্যালয় থেকে বরখাস্ত সেই সাথে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সোনাহাট কলেজ মোড় ও সোনাহাট বাজার হয়ে পুনরায় বিদ্যালয় মাঠে এসে জড়ো হয়। তারা এসময় প্রধান শিক্ষক বরাবর ভুক্তভোগীর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
এলাকাবাসী জানান, এই ঘটনা প্রথম নয়, শিক্ষক মঞ্জুরুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে এর আগেও নারী কেলেঙ্কারীর অনেক অভিযোগ উঠছিল। কিন্তু তিনি যুবলীগের সোনাহাট ইউনিয়নের সভাপতি হওয়ায় লোকজন ভয়ে তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পেত না। তার বিরুদ্ধে কিছু বললেই তাদের উপর অন্যায়, অত্যাচার আর জুলুম ও নির্যাতন নেমে আসতো।
অভিযোগ রয়েছে, যুগলীগের সভাপতি হয়ে বিভিন্ন রাস্তা-ঘাটের কাজ সাব কন্ট্রাক্টে নিয়ে নামমাত্র কাজ করে দায় সারতেন। এ নিয়ে সংবাদকর্মীরা নিউজ করতে গেলে তার ক্যাডার বাহিনী দিয়ে সংবাদকর্মীদেরকে হেনেস্তা করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন জানান, শিক্ষার্থীদের একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্যারকে জানিয়েছি। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য ও শিক্ষকদের নিয়ে আমি জরুরি মিটিং ডেকেছি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও অত্র বিদ্যালয়ের সভাপতি গোলাম ফেরদৌস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাটি শোনা মাত্রই আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রধান শিক্ষকে নির্দেশ দিয়েছি।











