
তরিকুল ইসলাম আপন, দক্ষিণ কোরিয়া: ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আনন্দ-উৎসব ও সম্প্রীতির আবহে দক্ষিণ কোরিয়ার ইনছন শহরে কোরিয়া হিন্দু টেম্পলের উদ্যোগে উদ্যাপিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গাপূজা।
প্রবাসের মাটিতে সনাতন ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি লালন, নতুন প্রজন্মের কাছে নিজস্ব শিকড় তুলে ধরা এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। শনিবার মহাসপ্তমী ও রবিবার মহাষ্টমীতে পূজার্চনায় অংশ নেন হাজারেরও বেশি হিন্দু ভক্ত।
কর্মব্যস্ত প্রবাসজীবনের মধ্যেও ধর্মীয় রীতি ও ঐতিহ্য অনুসরণ করে পূজার আনুষ্ঠানিকতা অব্যাহত রয়েছে।
ইনছন ছাড়াও দক্ষিণ কোরিয়ার উইজংবু ও বুসান শহরে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। এসব আয়োজনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন শহরে বসবাসরত প্রবাসী হিন্দুদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
পূজামণ্ডপে একত্র হওয়ার মধ্য দিয়ে প্রবাসীরা যেমন ধর্মীয় আচার পালনের সুযোগ পাচ্ছেন, তেমনি নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনও আরও দৃঢ় হচ্ছে।
কোরিয়া হিন্দু টেম্পলের সিনিয়র সহসভাপতি সজীব দাস বলেন, “প্রবাসের মাটিতে দুর্গাপূজা আমাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধরে রাখার পাশাপাশি সবাইকে একত্রিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়। আমরা চাই, নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের শিকড় ও সংস্কৃতি তুলে ধরতে এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করতে।”
প্রবাসজীবনে পরিবার, কর্মব্যস্ততা ও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দুর্গাপূজার মতো আয়োজন প্রবাসীদের মধ্যে আত্মিক সংযোগ ও সাংস্কৃতিক পরিচয় অটুট রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে নিজস্ব ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি পরিচিত করে তোলার ক্ষেত্রে এ ধরনের উৎসবের তাৎপর্য রয়েছে।
সব মিলিয়ে, দক্ষিণ কোরিয়ায় দুর্গাপূজা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং প্রবাসী বাংলাদেশি হিন্দুদের পারস্পরিক মিলন, সাংস্কৃতিক পরিচয় সংরক্ষণ ও সম্প্রীতির এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। ধর্মীয় উদ্যাপনের পাশাপাশি এ আয়োজন বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, সহাবস্থান ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।











