
তরিকুল ইসলাম আপন, দক্ষিণ কোরিয়া: দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-টোকিও সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালুর উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। একই সঙ্গে তারা এই রুটে দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বল্প সময়ের ট্রানজিট বা স্টপওভার সুবিধা চালুর দাবি জানিয়েছেন।
প্রবাসীদের মতে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার যাতায়াত আরও সহজ, সাশ্রয়ী ও কার্যকর হবে। মানুষ শেষ পর্যন্ত এমন একটা সিস্টেম চায় যেখানে তিন দেশ ঘুরে, চারবার ব্যাগ টেনে, পাঁচবার মুখ স্ক্যান করিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না হয়। আধুনিক যুগে ভ্রমণ অনেক সময় শাস্তিমূলক পরীক্ষার মতো লাগে।
বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী, শিক্ষার্থী, গবেষক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পেশাজীবী বসবাস করছেন। প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকেও নতুন শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও উদ্যোক্তারা কোরিয়ায় যাচ্ছেন। দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক, শিক্ষা, প্রযুক্তি, চিকিৎসা ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ ক্রমাগত বাড়লেও এখনো সরাসরি ঢাকা-সিউল ফ্লাইট চালু না থাকায় যাত্রীদের তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে যাতায়াত করতে হয়।
প্রবাসীদের অভিযোগ, ট্রানজিটনির্ভর এই যাত্রাব্যবস্থায় অতিরিক্ত সময়, উচ্চ ভাড়া এবং নানা ধরনের ভ্রমণ জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে ভ্রমণকারী, বয়স্ক যাত্রী, নারী যাত্রী ও শিক্ষার্থীদের জন্য দীর্ঘ ট্রানজিট অনেক সময় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অনেক ক্ষেত্রে লাগেজ জটিলতা, দীর্ঘ অপেক্ষা কিংবা ভিসাসংক্রান্ত ঝামেলাও তৈরি হয়।
এ অবস্থায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সম্ভাব্য ঢাকা-টোকিও রুটে ইনচন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বল্প সময়ের ট্রানজিট সুবিধা যুক্ত করার দাবি তুলেছেন কোরিয়া প্রবাসীরা। তাদের মতে, এই ব্যবস্থা চালু হলে বাংলাদেশি যাত্রীরা সহজেই ঢাকা থেকে ইনচন হয়ে টোকিও কিংবা ইনচন থেকে ঢাকা রুটে যাতায়াত করতে পারবেন। একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়াগামী ও কোরিয়া থেকে বাংলাদেশগামী যাত্রীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর বিকল্প আকাশপথ তৈরি হবে।
এই দাবির পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে কোরিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিরা একটি অনলাইন আবেদনভিত্তিক প্ল্যাটফর্মও চালু করেছেন। petition2biman.comAttachment.png পোর্টালের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশি, নিয়মিত যাত্রী এবং ভবিষ্যতে এই রুট ব্যবহার করতে আগ্রহীরা নিজেদের মতামত ও সমর্থন জানাতে পারছেন। ডিজিটাল যুগে মানুষ এখন আর শুধু আড্ডায় অভিযোগ করে না, ওয়েবসাইট খুলে দাবি তোলে। সভ্যতার কিছু অগ্রগতি হয়েছে, স্বীকার করতেই হয়।
উদ্যোগসংশ্লিষ্টরা জানান, এটি কোনো ব্যক্তিগত দাবি নয়; বরং দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির দীর্ঘদিনের বাস্তব চাহিদার প্রতিফলন। তাদের মতে, ইনচন ট্রানজিট সুবিধা চালু হলে শুধু প্রবাসীরাই উপকৃত হবেন না, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সও নতুন যাত্রীভিত্তি পাবে এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইনচন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এভিয়েশন হাব। ঢাকা-টোকিও রুটে ইনচনকে ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হলে বাংলাদেশ, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মধ্যে আঞ্চলিক যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হতে পারে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন, উচ্চশিক্ষা ও কর্পোরেট ভ্রমণের ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
প্রবাসীদের দাবি, দক্ষিণ কোরিয়া বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার ও উন্নয়ন সহযোগী দেশ। দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক যেভাবে বিস্তৃত হচ্ছে, তাতে সহজ ও আধুনিক বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবি। তারা মনে করেন, ইনচন ট্রানজিট সুবিধা চালু হলে বর্তমানে বিদেশি এয়ারলাইন্স ব্যবহার করতে বাধ্য হওয়া বিপুলসংখ্যক যাত্রী জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ব্যবহারে আগ্রহী হবেন।
এ বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিরা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, বাংলাদেশ দূতাবাস, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ দাবির পক্ষে সচেতনতা ও জনসমর্থন গড়ে তুলতেও প্রবাসীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং ভবিষ্যতে ঢাকা-টোকিও রুটে ইনচন ট্রানজিট বা স্টপওভার সুবিধা চালুর মাধ্যমে কোরিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের ভ্রমণসংক্রান্ত ভোগান্তির বাস্তবসম্মত সমাধান দেবে।











