শুক্রবার, ২৬শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ,১০ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

এর সর্বশেষ সংবাদ

দুই রাতে ইরানের ১৭০টি স্থাপনায় আঘাত যুক্তরাষ্ট্রের

যায়যায়কাল ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র বুধবার টানা দ্বিতীয় রাতের মতো ইরানের ওপর ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় তারা ইরানের ১৭০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। উভয় পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর পর এটি ছিল সবচেয়ে বড় পরিসরে হামলা।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, এ তীব্র বোমাবর্ষণের উদ্দেশ্য হলো ‘হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও নিরপরাধ বেসামরিক নাবিকদের ওপর হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা আরও দুর্বল করে দেওয়া’।

আগের রাতের মতো বুধবার রাতেও ইরানজুড়ে বিমান হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। এতে অন্তত ১৪ জন নিহত হন। এর জবাবে তেহরান উপসাগরীয় দেশগুলোয় মার্কিন সামরিক অবস্থানে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগপ্রধান হোসেন কেরমানপোর বলেন, যুদ্ধবিরতি বহাল থাকা অবস্থায়ই যুক্তরাষ্ট্র ৭ ও ৮ জুলাই ইরানের পাঁচটি প্রদেশে হামলা চালিয়েছে। হামলায় ১৪ জন শহীদ এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় তেহরানের সঙ্গে যুক্ত রেলপথের দুটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইরান-তেহরান রেল করিডরের রেলপথও। এ ছাড়া বুশেহরে পারমাণবিক স্থাপনার কাছেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে এবং একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তির আলোচনার সুযোগ তৈরি করার লক্ষ্যে গত ১৭ জুন ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছিল। এরপর বৃহস্পতিবারের এই পাল্টাপাল্টি হামলা ছিল সবচেয়ে বড় ধরনের সংঘাত।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে ইরানি হামলার কারণে যুদ্ধবিরতি ‘শেষ’ হয়ে গেছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই এসব হামলা চালানো হয়। হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানে হামলার ভিডিও পোস্ট করেন এবং দেশটিকে আবারও হুমকি দেন।

নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘এটি গতকাল (মঙ্গলবার) জাহাজে ইরানের বোমাবর্ষণের প্রতিশোধ। যদি এটি আবার ঘটে, তবে পরিস্থিতি আরও অনেক খারাপ হবে!’

এর কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে এ হামলা দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের দিকে যাবে না, বরং এটি হবে ‘খুবই দ্রুতগতির’।

এদিকে মার্কিন হামলার জবাবে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরানও। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর বাহরাইনে অবস্থিত। ইরানের হামলার সতর্কতায় দেশটিতে অন্তত তিনবার সাইরেন বেজে ওঠে। পাশাপাশি কুয়েত ও কাতারকেও লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরানি বাহিনী। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে জর্ডানও। এসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যায়যায়কাল এর সর্বশেষ সংবাদ