বুধবার, ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ,২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

দক্ষিণ সুলতানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার দক্ষিণ সুলতানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও সহকারী শিক্ষকদের মানসিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

এসব অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রুহুল আমীন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়।

কমিটির সদস্যরা হলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এস এম মফিজুল ইসলাম, কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাছরুরা খানম এবং শ্যামনগর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হুমায়ুন কবির।

অফিস আদেশ ও লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক নাহিদ সুলতানা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। তিনি ২০০৪ সাল থেকে বিদ্যালয়টিতে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের গেট, পাখা ও পুরোনো বেঞ্চ বিক্রির অর্থ আত্মসাৎ করেছেন প্রধান শিক্ষক। এ ছাড়া কন্টিনজেন্সি, স্লিপ ফান্ড, প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম এবং জাতীয় দিবস উদ্যাপনের সরকারি বরাদ্দের হিসাব জানতে চাইলে শিক্ষকদের অপমান করা ও মুখ বন্ধ রাখার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলাকালে কিংবা অবসর সময়ে শিক্ষকেরা কার্যালয়কক্ষে বাতি ও পাখা ব্যবহার করলে প্রধান শিক্ষক সেগুলো বন্ধ করে দেন। শিক্ষার্থীদের সামনে সহকর্মীদের অযোগ্য বলে হেয় করা, অনুমতি ছাড়া শিক্ষকদের গোপনে ভিডিও ধারণ করে ভয়ভীতি দেখানো এবং বিদ্যালয়ের দপ্তরিকে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করার অভিযোগও করা হয়েছে।

অভিযোগকারী শিক্ষকের দাবি, প্রধান শিক্ষকের আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে এর আগে তাহেরা পারভীন নামের এক সহকারী শিক্ষককে অন্য বিদ্যালয়ে প্রেষণে যেতে হয়েছে। এ ছাড়া ভুয়া শিক্ষার্থী দেখিয়ে উপবৃত্তির অর্থ উত্তোলনের বিষয়ে আগের একটি তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গিয়েছিল বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ওই ঘটনায় সরকারি বিধি অনুযায়ী ব্যাংক চালানের মাধ্যমে অর্থ ফেরত দিতে হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রুহুল আমীন বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

, , বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যায়যায়কাল এর সর্বশেষ সংবাদ