
মিনহাজ আলী, শিবগঞ্জ (বগুড়া) : বিয়ের বিষয়ে কথা বলতে প্রেমিক মাহাবুব হোসেন (২৮) কে বাড়িতে ডেকেছিলেন প্রেমিকার বাবা। কিন্তু, বিয়ের আলোচনায় বনিবনা না হওয়ায় শুরু হয় বাকবিতন্ডা। এক পর্যায়ে ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে মেয়েকে উত্যক্তের অভিযোগে ঐ যুবককে পুলিশে ধরিয়ে দেন বাবা। থানায় নেয়া হলে সেখানে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন যুবক মাহাবুব।
শনিবার বেলা ১১টার দিকে বগুড়ার শিবগঞ্জ থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে৷
মাহাবুব হোসেন শিবগঞ্জ উপজেলার নাটমরিচাই গ্রামের আবু সালেহ এর ছেলে। তিনি পেশায় একজন দিনমজুর। বর্তমানে তাঁকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, মাহাবুবের সঙ্গে কয়েক বছর আগে পাশের গ্রামের এক তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে ঐ প্রেমিকার বাবা মাহবুবকে ফোন করে বিয়ের কথাবার্তা বলার জন্য তাঁদের বাসায় ডাকেন। কিন্তু কথাবার্তায় বনিবনা হয়নি তাঁদের। এসময় উভয়ের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে মেয়েকে উত্যক্তের অভিযোগে ঐ তরুণীর বাবা ৯৯৯ এ ফোন দেন। পরে পুলিশ এসে মাহাবুবকে থানা হেফাজতে নেন। শনিবার বেলা ১১টার দিকে থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে মাহাবুব আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
মাহাবুবের বাবা আবুল হোসেন জানান, আমার ছেলের সঙ্গে কি ঘটেছে তাঁর কিছুই জানিনা। রাতে পুলিশ আমাদের আসতে বলেছিল। কিন্তু টাকা না থাকায় ছেলেকে নিয়ে যেতে পারিনি। পুলিশ আমাকে একটি ফুটেজ দেখিয়েছে। সেখানে মাহাবুব আত্মহত্যার চেষ্টা করছে এমন দেখা যায় ৷
এ ব্যাপারে বগুড়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার স্নিগ্ধ আখতার জানান, ৯৯৯ এ ফোন পেয়ে মাহবুবকে রাত আড়াইটার দিকে তাঁর প্রেমিকার বাসা থেকে থানায় নিয়ে আসা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় কোনো অভিযোগ না থাকায় সকালে অভিভাবকদের হাতে তাঁকে তুলে দেয়ার কথা ছিল। তবে, সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, রাতভর ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে বসে থাকা মাহবুব শনিবার বেলা ১১টার দিকে প্যান্টের বেল্ট খুলে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করছেন। ঘটনা টের পেয়ে পুলিশ সদস্যরা তাঁকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন মাহবুব এখন আশঙ্কামুক্ত ।











