সোমবার, ২রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ,১৬ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

এর সর্বশেষ সংবাদ

বিশ্ববিদ্যালয়ে ইভটিজিং: লিখিত অভিযোগ দিলেন মাভাবিপ্রবির মাস্টার্সের ছাত্রী

অভিযুক্ত শাহেদ

সমাপ্তী খান, মাভাবিপ্রবি: টাঙ্গাইলে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবিতে) নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের জুনিয়র শিক্ষার্থী দ্বারা ইভটিজিং এর শিকার হয়েছেন উল্লেখ করে প্রক্টর অফিসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ব্যবস্থাপনা বিভাগের মাস্টার্সের এক নারী শিক্ষার্থী।

শনিবার প্রক্টর অফিসে লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী উল্লেখ করেন, গত ১৬ অক্টোবর (বৃহস্প্রতিবার)২০২৫ তারিখ মাগরিবের পর মান্নান হলের সামনে জুনিয়র দ্বারা ইভটিজিং এর শিকার হই। ঐদিন মাগরিবের পর অর্থাৎ সন্ধ্যায় মান্নান হলের সামনে আমি আমার এক সহপাঠীর সাথে ছবি তুলছিলাম। সেই সময় বিজিই বিভাগের ২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী শাহেদ তার সাথে তার এক সিনিয়র আমার ছবি তোলা নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে হাসাহাসি করেন। কথার এক পর্যায়ে সে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। তার এক মিনিট পর যে কিছুদূর গিয়ে কাকে জানি ফোন করে আর অনেক জোরে জোরে চিল্লায়ে বলতেছিল সে কি আমার এলাকার সিনিয়র আপু, আমাকে এভাবে কেন বলল আরও অনেক কথা তোরা আয়। তারপর আমার বন্ধু তাকে আবার ডাক দেয় আর বলে সে কেন এভাবে আমার দিকে আঙ্গুল তুলে কথা বলে আর শাসায়। তারপর তার ৩-৪ জন বন্ধু আসে। কিন্তু শায়েদ ছোলটি তখন আমার দিকে আক্রমণাত্মকভাবে আসে। তারপর সে কিছুক্ষণ পর (সায়েদ) তার কোনো এক সিনিয়র রসায়ন বিভাগের ভাই তাকে ফোন দেয়। আর তার বন্ধু বান্ধবদের সাথে চিল্লাচিল্লি করে। তখন তার সিনিয়র ভাই আমাদের জেরা করা শুরু করে এবং সাথে আরেকটি ছেলে ছিল মোটা লম্বা করে, আমি তার নাম জানি না। সেও আমাদের সাথে অসভ্যদের মত আচরণ করে। যে বিচার করার জন্য সেই রসায়ন বিভাগের সিনিয়র ভাইকে নিয়ে আসে, কিন্তু ভাই এর সামনেই আমাদের সাথে যা আচরণ করে বলার বাইরে।

ভুক্তভোগী নারী শিক্ষার্থী জানান, আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমাকে নিয়ে নানাভাবে সাইবার বুলিং করা হচ্ছে। প্রক্টর অফিসে আমি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আশা করছি প্রশাসন এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার করে আমার নিরাপত্তা প্রদান করবেন।

লিখিত অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ইমাম হোসেন বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অভিযোগের বিষয়ে জানাবো, এবং ভিসি স্যারের পরামর্শে একটি কমিটি গঠন করা হবে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী আমাদের নারী শিক্ষার্থীরা ২৪ ঘন্টাই আমাদের ক্যাম্পাসে নিরাপদ। তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনা সুষ্ঠু বিচার করা হবে।

পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, আমার কাছে সকল শিক্ষার্থী সমান, আমার বিভাগের শিক্ষার্থীদের আমি আলাদা কোন সুযোগ-সুবিধা দেই না। এজন্য এই কমিটিতে আমি থাকবো না।

ঘটনার পরের দিন অভিযুক্ত শিক্ষার্থী শাহেদ সারাদিন না খেয়ে থাকায় অসুস্থ হয় পড়লে তাকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হসপিটাল নেওয়া হয়। তার অবস্থা আশংকাজনক বলে জানায় তার সহপাঠীরা। অসুস্থ শিক্ষার্থীকে হসপিটালে দেখতে ও তথ্য সংগ্রহের জন্য যাওয়া হলে দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধির সাথে ভুক্তভোগী নারী শিক্ষার্থীর অভিযোগ তুলে ধরার কারণে বাজে আচরণ করার পাশাপাশি হুমকি প্রদান করেন তার সহপাঠীরা।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তের সাথে কথা বলার মত পরিস্থিতি না থাকায় সাংবাদিকদের চলে আসতে হয়েছে।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যায়যায়কাল এর সর্বশেষ সংবাদ