বুধবার, ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ,৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ভুরুঙ্গামারীতে ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে শিক্ষক বহিষ্কার

ভুরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: ভুরুঙ্গামারীতে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে এক শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। তাকে বরখাস্তের দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করার পর কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার এ সিদ্ধান্ত নেয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার সোনাহাট দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে মেইন রোড অবরোধ করে টায়ার পুড়ে বিক্ষোভ মিছিল করে শিক্ষার্থীরা। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।

জানা গেছে, কয়েকদিন আগে সোনাহাট দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের বিএসসি শিক্ষক মঞ্জুরুল ইসলামের কাছে প্রাইভেট পড়তে যায় ওই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক ছাত্রী। ওই ছাত্রীকে একা পেয়ে অনৈতিক উদ্দেশ্যে তার শরীর স্পর্শ ও কুপ্রস্তাব দেয় শিক্ষক মঞ্জুরুল ইসলাম। এই ঘটনা অন্যদের জানাতে নিষেধ করেন তিনি।

পরে ভুক্তভোগী ছাত্রী তার এক বান্ধবীকে ঘটনাটি জানায়। ধীরে ধীরে ঘটনাটি সকল শিক্ষার্থীদের মাঝে পৌঁছে গেলে বুধবার দুপুরে বিদ্যালয়ের সকল ছাত্রছাত্রীরা অভিযুক্ত শিক্ষকের পদত্যাগের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিলে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের।

এ ঘটনায় বুধবার প্রধান শিক্ষক বরাবরে ভুক্তভোগী একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। উক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন এর স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপনে দেখা যায় অভিযুক্ত শিক্ষক মন্জুরুল ইসলামকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, এই ঘটনা প্রথম নয়, শিক্ষক মঞ্জুরুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে এর আগেও নারী কেলেঙ্কারীর অনেক অভিযোগ উঠছিল। কিন্তু তিনি যুবলীগের সোনাহাট ইউনিয়নের সভাপতি হওয়ায় লোকজন ভয়ে তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পেত না। তার বিরুদ্ধে কিছু বললেই তাদের উপর অন্যায়, অত্যাচার আর জুলুম ও নির্যাতন নেমে আসতো।

অভিযোগ রয়েছে, যুগলীগের সভাপতি হয়ে বিভিন্ন রাস্তা-ঘাটের কাজ সাব কন্ট্রাক্টে নিয়ে নামমাত্র কাজ করে দায় সারতেন। এ নিয়ে সংবাদকর্মীরা নিউজ করতে গেলে তার ক্যাডার বাহিনী দিয়ে সংবাদকর্মীদেরকে হেনেস্তা করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

আন্দোলনের এক পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও অত্র বিদ্যালয়ের সভাপতি গোলাম ফেরদৌস এসে মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেন। এ ঘটনা তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন। আন্দোলন বন্ধ করে বাড়ি যেতে বললে পরে শিক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধ ছেড়ে দেন।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

, বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *